মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১
Logo
বাঘারপাড়ার চিত্রা নদীতে আঁড়বাঁধ দিয়ে মাছ শিকার!

বাঘারপাড়ার চিত্রা নদীতে আঁড়বাঁধ দিয়ে মাছ শিকার!

মৎস্য কর্মকর্তার উদাসীনতা

যশোরের বাঘারপাড়া চিত্রা নদীতে অবৈধভাবে আঁড় বাঁধ দিয়ে চলছে অবাধে মৎস্য শিকার। এমনকি বাঁধ দিয়ে পানির স্বাভাবিক ¯্রােতধারা বন্ধ করা হচ্ছে। ফলে নদী হারাচ্ছে নাব্যতা, সেইসাথে নদী হয়ে পড়ছে মাছশূন্য।

 

দীর্ঘদিন এভাবে চলতে থাকলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে না। তবে প্রশাসন বলছে, তারা নিয়মিত আঁড় বাঁধ উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করছেন। অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা মৎস্য বিভাগের উদাসীনতার ফলে অবাধে এসব অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন অসাধু মৎস্য শিকারীরা।

 

উপজেলা মৎস্য অফিসের ২’শ গজ দূরে চিত্রা নদীতে দেওয়া হয়েছে আঁড়বাঁধ। প্রশাসনের নাকের ডগায় কিভাবে আঁড়বাঁধ দিয়ে মৎস্য শিকার হচ্ছে এনিয়ে নদী পাড়ের মানুষের প্রশ্ন রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এসব অসাধু মৎস্য শিকারীদের সাথে মৎস্য অফিসের কারো কারো সাথে রয়েছে গভীর সখ্যতা।

 

খোদ মৎস্য কর্মকর্তার বাসায় এসব শিকারীরা মাছ নিয়ে যাওয়া আসা করে। শুধু উপজেলা সদর নয়, চিত্রা নদীর বিভিন্ন এলাকায় এমন আঁড়বাঁধ দেয়া রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে আঁড়বাঁধ দিয়ে মৎস্য শিকার করা হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে আঁড়বাঁধ উচ্ছেদে তেমন কোন তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না।

 

জানা গেছে, উপজেলার খাজুরা থেকে সীমাখালি ব্রিজ, বিল জলেশ্বর থেকে ধলগ্রাম স্লুইসগেট পর্যন্ত চিত্রা নদীর বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে আঁড়বাঁধ দিয়ে মাছ শিকারের মহোৎসব শুরু হয়েছে। নদীতে আড়াআড়ি বাঁধ দিয়ে বা স্রোত বাধাগ্রস্ত করে মাছ শিকার আইনগতভাবে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও চিত্রা নদীতে অবাধে চলছে মাছ শিকার।

 

নদীতে আড়াআড়িভাবে বাঁধ দেয়ার কারণে ¯্রােত বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। এছাড়া এসব বাঁধে ঘুনিজাল পেতে রাখার কারণে বড় থেকে ছোট মাছ এমনকি মাছের ছোট ছোট পোনা পর্যন্ত ধরা পড়ছে। সরে জমিনে দেখা গেছে, বাঘারপাড়া থানা বাজারের পিছনে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় একটি মহল চিত্রা নদীতে অবৈধভাবে আঁড়বাঁধ দিয়ে মাছ শিকার করে আসছে।

 

বাঘারপাড়া আওয়ামী লীগ অফিসের পাশে ব্রিজ থেকে পশ্চিম দিকে তাকালে এমন দৃশ্য চোখে পড়বে। বাঁধ ছাড়াও নদীতে কারেন্ট জাল ও ঘুনি জাল দিয়ে মাছ ধরার কারণে বড় থেকে খুব ছোট মাছও ধরা পড়ছে। ফলে দিনদিন মাছশূন্য হয়ে পড়ছে নদী।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, মৎস্য বিভাগের সঠিক তদারকি না থাকায় স্থানীয় কিছু মহল তাদের ইচ্ছামত আঁড়বাঁধ দিয়ে মাছ শিকার করছে। এমনকি উপজেলা সদরের মৎস্য অভয়াশ্রমটিও তদারকির অভাবে বিলুপ্তির পথে।

 

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা পলাশ বালা জানিয়েছেন, ‘আঁড়বাঁধের কোনো খবর আমার জানা নেই, যদি থাকে তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সংযুক্ত থাকুন