মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১
Logo
বাঘারপাড়ায় খাজাবাবা ক্লিনিকের খামখেয়ালীপনায় নবজাতকের মৃত্যু

বাঘারপাড়ায় খাজাবাবা ক্লিনিকের খামখেয়ালীপনায় নবজাতকের মৃত্যু

যশোরের বাঘারপাড়ায় সিজারের পর ভুল চিকিৎসায় এক নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে বলে পাওয়া গেছে। গতকাল সোমবার দুপুরে উপজেলা সদরের খাজাবাবা ক্লিনিকে এঘটনা ঘটে।

 

এঘটনায় বিক্ষুদ্ধ স্বজনরা ক্লিনিকটি ঘেরাও করে রাখে। খবর পেয়ে বাঘারপাড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। এর আগে গত শনিবার ওই ক্লিনিকে আরেক নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দক্ষিণ শ্রীরামপুর গ্রামের ওয়াদুদ বিশ্বাসের স্ত্রী মাসুরা বেগমের প্রসব বেদনা শুরু হলে রোববার সকালে খাজাবাবা ক্লিনিকে ভর্তি করতে নিয়ে যাওয়া হয়।

 

সেখানে স্বাভাবিকভাবে প্রসব হবে না বলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ জানান। তাদের পরামর্শে এদিন সন্ধ্যায় তার সিজারিয়ান অপারেশন শুরু হয়। সিজারিয়ান অপারেশন করে ফুটফুটে পুত্র সন্তান জন্ম দেন মাসুরা বেগম।

 

এরপর সকাল গড়াতেই নবজাতকটির অবস্থা বেগতিক হতে থাকে। ভালো ডাক্তার আসছে বলে নিহতের পরিবারকে বার বার জানান ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। ডাক্তার আসার আগেই ভুল চিকিৎসায় হয়ত মারা গেছে নবজাতকটি।

 

নিহত নবজাতকের পিতা ওয়াদুদ বিশ্বাস অভিযোগ করেছেন, আমার সন্তানটি ভুমিষ্ঠ হওয়ার পর তার অবস্থা আশঙ্খাজনক হওয়ায় বার বার ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। কিন্তু ক্লিনিক মালিক বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।

 

এমনকি মালিক আমাদের ছাড়পত্র দিতে অস্বিকার করে এবং ভালো ডাক্তার আসছে বলে আস্বস্থ করেন ক্লিনিক মালিক নূর হাসান লাল্টু। ক্লিনিক মালিকের অবহেলায় আমার একটি মাত্র সন্তান মারা গেল। আমি এর উপযুক্ত বিচার চাই।

 

তিনি আরো বলেন, পারিবারিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে মামলা করা হবে। ক্লিনিক সূত্রে জানা গেছে, মাসুরা বেগমের প্রসব বেদনা শুরু হলে অবস্থা খারাপ দেখে সিজার করানো হয়। অপারেশন করেন ডা. সন্দিপ কুমার পাল।

 

ভালোভাবেই তার অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে। এদিকে ক্লিনিক মালিক নূর হাসান লাল্টুর বিরুদ্ধে আরো একাধিক অভিযোগ রয়েছে। দলিল লেখকের পাশাপাশি সাংবাদিকতার পরিচয় দিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে মানুষদের অপচিকিৎসা দিয়ে আসছেন।

 

এমনকি ডা. এসকে পালের স্বাক্ষর জাল করে তিনি নিজেই পেসক্রিপশন তৈরি করেন। এর আগেও ওই ক্লিনিকে নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। সাংবাদিকতার পরিচয়ে সেগুলো ধামাচাপা দিয়ে পার পেয়েছেন।

 

এমনকি খাজাবাবা ক্লিনিকে নেই কোনো বৈধ কাগজপত্র। মানুষকে প্রতারিত করে ভুল চিকিৎসা দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছেন মোটা অংঙ্কের টাকা। অন্যদিকে চাড়াভিটা এলাকার ফল ব্যবসায়ী রেজাউল ইসলাম জানিয়েছেন, খাজাবাবা ক্লিনিকে সিজারের মাধ্যমে তার স্ত্রীর সন্তান প্রসব হয়।

 

প্রসবের পর গত শনিবার ক্লিনিকে থাকা অবস্থায় ভুল চিকিৎসায় তার সন্তান মারা যায়। ক্লিনিক মালিককে সন্তান মারা যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি উল্টে আমাকে ধমক দেন।

 

অভিযুক্ত ক্লিনিক মালিক নূর হাসান লাল্টুর সাথে কথা হলে তিনি জানান, বাচ্চাটি আমার মালিকানাধীন ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে ভূমিষ্ট হয়।

 

পরে ঠান্ডা জনিত কারণে বাচ্চাটির মৃত্যু হয়। সিজারকারী ডাক্তার সন্দিপ কুমার পাল জানিয়েছেন, সিজারের পর নবজাতক ও প্রসুতির অবস্থা ভালো ছিলো। তাদের চিকিৎসার জন্য কোনো ঔষধ আমি প্রেসক্রিপশন করিনি।

 

তারপর কি হয়েছে আমি জানিনা। বাঘারপাড়া থানার ওসি ফিরোজ উদ্দীন জানিয়েছেন, এবিষয়ে ভুক্তভোগী মামলা করতে আসলে অবশ্যই মামলা নেওয়া হবে, একইসাথে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

যশোরের সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহিন জানিয়েছেন, ক্লিনিকটি আমি ব্যাক্তিগত ভাবে চিনি। নবজাতকের মৃত্যুর ব্যাপারে কোনো অভিযোগ পাইনি।

 

অভিযোগ প্রমাণিত হলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরো বলেন, ক্লিনিকটি অবৈধভাবে চলছে। দ্রুত বন্ধ করা হবে।

 

সংযুক্ত থাকুন