বুধবার, ১২ মে ২০২১
Logo
বাঘারপাড়ায় যৌতুকের টাকা না পেয়ে স্ত্রীর হাত-পা ভেঙ্গে দিলো নেশাগ্রস্থ স্বামী

বাঘারপাড়ায় যৌতুকের টাকা না পেয়ে স্ত্রীর হাত-পা ভেঙ্গে দিলো নেশাগ্রস্থ স্বামী

যশোরের বাঘারপাড়ায় এক যৌতুকলোভী নেশাখোর স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীকে বেধড়ক মারপিট করে হাত-পা ভেঙ্গে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। যৌতুকের টাকা না পেয়ে স্বামী ও শ্বাশুড়ী যৌথভাবে লাঠির আঘাতে গৃহবধু রেহেনা খাতুনের দুটি হাত ও পা ভেঙ্গে দিয়েছেন।


আহত রেহেনা খাতুন বাঘারপাড়া উপজেলার হলদা গ্রামের আনোয়ার হোসেনের মেয়ে। পারিবারিকভাবে ২০১০ সালে ১ লক্ষ টাকার দেনমোহরে জহুরপুর ইউনিয়নের ছোটক্ষুদ্রা গ্রামের নূরআলীর ছেলে ইকরামুলের সাথে বিবাহ হয়।


বিবাহের পর থেকে বিভিন্ন সময়ে স্বামীর বাড়ির লোক যৌতুক দাবি করে আসছে। আনোয়ার হোসেন মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে বিয়ের সময়ই যৌতুক হিসাবে এক লক্ষ টাকা দিয়েছিল জামাইকে। পরে বিভিন্ন সময়ে জামাইয়ের চাপে আরও প্রায় নব্বই হাজার টাকা দিয়েছেন।


বর্তমানে আরও ১ লক্ষ টাকার জন্য মেয়েকে চাপ দিচ্ছে। আর এ টাকা না পেয়ে রেহেনাকে মেরে চার হাত পা ভেঙ্গে দিয়েছে। শুক্রবার সকালে তাকে মুমূর্ষ অবস্থায় বাঘারপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। আহত রেহেনার মা ফাতেমা বেগম চার জনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।


অভিযুক্তরা হলেন মেয়ের জামাই, শ্বাশুড়ী, মামা শ্বশুর ও খালা শ্বাশুড়ী। এ বিষয়ে গৃহবধু রেহেনা বলেন, ‘আমার স্বামী একজন নেশাগ্রস্থ লোক। বিভিন্ন সময়ে বাবার কাছ থেকে টাকা আনতে বলে না আনতে না পারলেই মারপিট শুরু করে। গত বৃহস্পতিবার ১ লক্ষ টাকা আনতে বাবার বাড়ি যেতে বলে। আমি পারবো না বলার সাথে লাঠি দিয়ে মারা শুরু করে তারা।


এক সময় জ্ঞান হারাই। পরে স্থানীদের সহযোগিতায় হাসপাতালে ভর্তি হই। এর আগে মঙ্গলবারও আমাকে মারে। মারার সময় আমার মামা শ্বশুর, শ্বাশুড়ী ও খালা শ্বাশুড়ী রিজিয়া বেগমও জড়িত’। টাকা আনার জের ধরে গত মঙ্গলবার মেহগনি গাছের ডাল দিয়ে আমাকে বেধড়ক পেটায়। বিয়ের পর থেকে টাকা জন্য সে প্রায় মারে। ২০১৩ সালে একবার টাকার জন্য আমাকে ‘দা’ দিয়ে কোপায়।


সে সময় মেয়ের সন্তানের কথা চিন্তা করে এবং স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান দিলু পাটোয়ারির মধ্যস্থতায় সংসার শুরু করি। রেহেনার বাবা আনোযার হোসেন বলেন আমার স্ত্রী রাস্তার শ্রমিকের কাজ করে। আমি ভ্যান চালাই।


সামান্য আয়ে চলে আমাদের সংসার। তারপরও মেয়ে সুখে থাকবে এমন চিন্তা করে পর্যায়ক্রমে দেড় লক্ষ টাকা দিয়েছি। ইকরামুলের ফোনে যোগাযোগ করলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে শ্বাশুড়ী জুলেখা বেগম মারপিটের কথা স্বীকার করে বলেন গাজা সেবনের অপরাধে আমার ছেলে জেল খেটেছে। আমার ছেলের বৌ এর মুখ ভালো না, তাই ছেলে ইকরামুলের কাছে মার খায়’।


কর্তব্যরত চিকিৎক ফারজানা সিনথিয়া জানান, রেহেনার দু হাত ও ডান পা ভেঙ্গে গেছে। বাম পা আঘাতে ফুলে উঠেছে। তাই ব্যান্ডেজ করা হয়েছে। এ ছাড়া শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে মারের আঘাতে রক্ত জমাট বেঁধেছে। বাঘারপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ উদ্দিন মামলার ব্যাপারে বলেন, ‘আজ (রবিবার) মামলা রেকর্ড হবে।

সংযুক্ত থাকুন