বৃহস্পতিবার, ১৩ মে ২০২১
Logo
বাঘারপাড়ায় সরকারি সার্ভেয়ারের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহনের অভিযোগ

বাঘারপাড়ায় সরকারি সার্ভেয়ারের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহনের অভিযোগ

বাঘারপাড়ায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসের সার্ভেয়ার সাজ্জাদ হোসাইন শুভ’র বিরুদ্ধে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। জমির সিমানা নির্ধারণী ও সরকারী রাস্তার গাছ মালিকানায় দিয়ে অর্থ নেয়ার অভিযোগ রয়েছে তার নামে।

কয়েক দিন আগে উপজেলার সদরের বাঘারপাড়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসার পার্শ্বে রবিউল ইসলাম রবি ও অবসরপ্রাপ্ত কলেজ শিক্ষক গোলাম সরোয়ারের মালিকানা জমির সিমানা নির্ধারণীর দিন এমন ঘটনা ঘটেছে।

 

সরজমিন ঘুরে জানা গেছে, মাদ্রসার রাস্তার পাশে পল্লী চিকিৎসক রবিউল ইসলাম রবি ও অবসরপ্রাপ্ত কলেজ শিক্ষক গোলাম সরোয়ারের বসতবাড়ি। গত দুই মাস আগে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে আবেদন করেন জমির সিমানা নির্ধারণের জন্য।

 

আবেদনের সুবাদে গত ১৭ মার্চ সিমানা নির্ধারণ করতে সরেজমিনে আসেন সার্ভেয়ার সাজ্জাদ হোসাইন শুভ।

আনুমানিক দেড় লক্ষ টাকার মেহগুনি গাছসহ সরকারি জায়গাকে মালিকানা জমি হিসেবে চিহ্নিত করে দেন (শুভ)। রাস্তার প্রায় ১৮ ইঞ্চি জায়গা রেখে ওই মালিকপক্ষদের সিমানা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। যা নিয়ে এলাকা বাসীর মনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

 

সরকারী গাছ মালিকানায় দেয়ায় বন বিভাগের কর্মকর্তারাদের মাঝে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ গত ১৭ মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম বার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ না করে নিয়ম ভঙ্গ করে জমির সিমানা নির্ধারণে আসেন সার্ভেয়ার সাজ্জাদ হোসাইন শুভ। অনেকেই বিপদে পড়ার ভয়ে প্রশাসনের বিপক্ষে কথা বলেন না।

পল্লি চিকিৎসক রবিউল ইসলাম রবি জানিয়েছেন, কিছু খরচ লাগে এমন কথা বলে সার্ভেয়ার আমাদের দু’জনের কাছ থেকে ৬ হাজার টাকা নিয়েছেন। আমার ১০ শতক জমির ০.২৮ শতক জমি কম দিয়ে সিমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। এমনকি সরকারি জায়গার ভিতর পিলার পুতে দিয়ে গেছেন।

 

একইভাবে অভিযোগ করেন গোলাম সরোয়ারও। তার নিজের বসত ঘর অন্যের জমির অংশে হিসাবে বন্টন করেছেন। উপজেলা বন বিভাগের কর্মচারী আব্দুল হাই জানিয়েছেন, উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে দেখতে পায় সরকারী গাছ মালিকানায় বন্টন করে দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারটি লজ্জাজনক। এ ঘটনার সত্যতা আমার উপরের কর্মকর্তাদের জানালে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।

 

সার্ভেয়ার সাজ্জাদ হোসাইন শুভ অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করে সাংবাদিকদের বলেন, ‘টাকা নেওয়ার অভিযোগ সত্য নয়। সরকারী গাছ পাবলিকের ভিতর দেওয়া হয়নি।’

 

জানতে চাইলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফারজানা জান্নাত বলেন, ‘আপনার থেকে মাত্র থেকে বিষয়টি জানলাম। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানিয়া আফরোজ জানিয়েছেন, সীমানা নির্ধারণে টাকা নেওয়ার কোনো প্রশ্নই আসেনা। লিখিত অভিযোগ পেলে অবশ্যই তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

সংযুক্ত থাকুন