শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০
Logo
বাঘারপাড়া সরকারি পাইলট স্কুলে অ্যাসাইনমেন্টের নামে অর্থ বাণিজ্য!

বাঘারপাড়া সরকারি পাইলট স্কুলে অ্যাসাইনমেন্টের নামে অর্থ বাণিজ্য!

দশম শ্রেণির কারিগরি বিভাগের শিখনফল মূল্যায়নে অ্যাসাইনমেন্টের নিয়ম না থাকলেও শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট টপিক সংগ্রহ ও জমা করতে বাধ্য করেছে যশোরের বাঘারপাড়ার সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। এমনকি নিয়ম নীতি না মেনেই ওই বিভাগের শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সূত্রমতে করোনাভাইরাসের কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে প্রায় ৭-৮ মাস। এ অবস্থায় শিক্ষা কার্যক্রমের ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নিতে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিখনফল মূল্যায়নে শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট করানোর নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। সে অনুযায়ী, সপ্তাহে একদিন প্রতিষ্ঠান থেকে অ্যাসাইনমেন্ট টপিক সংগ্রহ ও জমা দেবে শিক্ষার্থীরা। অ্যাসাইনমেন্ট বাবদ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় করা যাবে না বলে নির্দেশনা রয়েছে। অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, দশম শ্রেণির কারিগরি বিভাগের অ্যাসাইনমেন্ট করানোর নির্দেশ না থাকলেও শিক্ষকরা কিভাবে অ্যাসাইনমেন্ট জমা নিচ্ছেন। টাকার জন্য শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট টপিক সংগ্রহ ও জমা করতে বাধ্য করেছেন শিক্ষকরা। এমনকি টাকা না দিলে শিক্ষকদের হাতে থাকা মার্ক দিবে না বলে ভয় দেখিয়ে প্রতি শিক্ষার্থীদের কাছে ৪শ’ ৫শ’ টাকা করে আদায় করেছেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায়ও চলছে আলোচনা-সামালোচনা। জানা গেছে, অ্যাসাইনমেন্ট নিয়ে নতুন বাণিজ্য পেতে বসেছেন প্রতিষ্ঠানটির কারিগরি বিভাগের দ্বায়িত্বরত শিক্ষকরা। নবম শ্রেণির ইলেট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স বিভাগে ৭৮ জন ও দশম শ্রেণির একই বিভাগের ৬৫ জন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ইচ্ছামত অর্থ আদায় করেছেন ওই শিক্ষকরা। শিক্ষকরা বলছেন, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিদ্যালয়ের খরচ বাবদ টাকা আদায় করা হয়েছে। আবারো কোনো কোনো শিক্ষক বলছেন, দীর্ঘ দিন সরকারী বেতন না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সামান্য কিছু অর্থ আদায় করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির কারিগরি বিভাগের দ্বায়িত্বে থাকা শিক্ষক ইফতেখাইরুল রিগান অর্থ আদায়ের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, বেতন বাবদ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে। দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্টের নিয়ম না থাকলেও কেনো তাদের কাছ অ্যাসাইনমেন্ট ও টাকা নেয়া হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাদের কাছ থেকেও বেতন বাবদ টাকা নেয়া হচ্ছে। প্রধান শিক্ষক জুলহাস উদ্দিন বলেন, ‘দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট সংগ্রহ ও জমা নেওয়ার কোনো নির্দেশনা নেই, অর্থ আদায়তো দূরে থাক। অ্যাসাইনমেন্ট বাবদ কোন শ্রেণি থেকে টাকা নেওয়ার কোনো নিয়ম নেই।’ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আকরাম হোসেন খান জানিয়েছেন, ব্যস্ত আছি, ইউএনও স্যার ওই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি, অফিসে আসেন সবাই একসাথে এ বিষয়ে আলোচনা করা হবে। এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি তানিয়া আফরোজ জানিয়েছেন, ‘অ্যাসাইনমেন্ট বাবদ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার কোনো নির্দেশনা নেই। অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরো বলেন, যেসব শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে শিক্ষকরা টাকা নিয়েছে, তাদের টাকা ফেরতের ব্যবস্থা করা হবে।’

সংযুক্ত থাকুন