শনিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২১
Logo
বার্ড ফ্লু রোধে বেনাপোল-ভোমরাসহ যশোর-খুলনার স্থল ও নৌ-বন্দরে সতর্কতা

বার্ড ফ্লু রোধে বেনাপোল-ভোমরাসহ যশোর-খুলনার স্থল ও নৌ-বন্দরে সতর্কতা

ভারত থেকে হাঁস-মুরগি ও ডিম আমদানি নিষিদ্ধ

ভারতের ১০টি রাজ্যে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বার্ড ফ্লু (অ্যাভিয়েন ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস) ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশেও যাতে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেজন্য ভারত থেকে সব ধরনের হাঁস-মুরগি, ডিম ও এসবের বাচ্চা আমদানি অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষিদ্ধ করেছে সরকার।


বৃহস্পতিবার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এ সিদ্ধান্ত নেয়। একই সঙ্গে অবৈধভাবে চোরাপথেও এসব প্রাণী যাতে দেশে প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য বেনাপোল, ভোমরা সীমান্তসহ খুলনা বিভাগের সকল নৌ ও স্থল বন্দরে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নজরদারি করা হচ্ছে খুলনা বিভাগের সাড়ে ১১ হাজার মুরগির খামারে।


সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর প্রশাসনকে সতর্কতা করে চিঠি দেয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব রওনক মাহমুদ বলেন, আমরা কেবল সতর্কতামূলকভাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যদিও বাংলাদেশে এখনও কোন জেলায় বার্ড ফ্লুর সংক্রমণ দেখা যায়নি।


এখানে খামারি বা ক্রেতার আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। ভারতে যেখানে রোগটি শনাক্ত হয়েছে, তা বাংলাদেশ থেকে কয়েকশ কিলোমিটার দূরে। এ ছাড়া ভারতও ওইসব এলাকায় সতর্কতা জারি করেছে। আমরা আমাদের মাঠকর্মীদের সতর্ক থাকতে বলেছি। কোনো প্রকার উপসর্গ পেলেই সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এ ছাড়া আমাদের পূর্বের অভিজ্ঞতা তো আছেই। তাই ক্রেতাসাধারণকে অনুরোধ করব, আতঙ্কিত হয়ে আপনারা হাঁস-মুরগি বা ডিম খাওয়া বন্ধ করবেন না। নিষিদ্ধের ব্যাপারে গত মঙ্গলবারই পৃথক তিনটি চিঠি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগে পাঠানো হয়েছে বলে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. ইফতেখার হোসেন।


তিনি জানান, ভারত থেকে কোনোভাবেই যাতে মুরগির বাচ্চা, হাঁস-মুরগি, পাখি ও ডিম আমদানি না হয় সেজন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানিয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।


একই সঙ্গে এ রোগের সংক্রমণ ও বিস্তার রোধে সীমান্ত পথে বৈধ ও অবৈধভাবে মুরগির বাচ্চা, প্যারেন্টস্টক, হাঁস-মুরগি, পাখি ও ডিমের অনুপ্রবেশ বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং বাংলাদেশ কোস্টগার্ডকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদানের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।


এ ছাড়া সমুদ্র, নৌ এবং স্থলবন্দর দিয়ে মুরগির বাচ্চা, প্যারেন্টস্টক, হাঁস-মুরগি, পাখি ও ডিমের অনুপ্রবেশ বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট বন্দর র্কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদানের জন্য নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানিয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।


প্রাণি সম্পদ অধিদফতরের খুলনা বিভাগীয় পরিচালক ডা. মো. আমিনুল ইসলাম মোল্যা জানান, ১২ জানুয়ারি মহাপরিচালকের চিঠি পাওয়ার পর বিভাগের ১১ হাজার ৬৪৮ মুরগির খামারকে নজরদারিতে আনা হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে পোল্ট্রি খামারে লক্ষণ পাওয়া গেলে প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তাদের জানাতে বলা হয়েছে।

লক্ষণ ভিত্তিক সন্দেহজনক পাওয়া গেলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থাও করা হবে। ২০০৭ ও ২০০৮ সালে বার্ড-ফ্লু দেখা দেয়ায় দক্ষিণাঞ্চলের খামারিরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

 

সংযুক্ত থাকুন