মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২০
Logo
বেনাপোল স্থল বন্দরে সক্রিয় শক্তিশালী চোরাচালানী সিন্ডিকেট

বেনাপোল স্থল বন্দরে সক্রিয় শক্তিশালী চোরাচালানী সিন্ডিকেট

দেশের সর্ববৃহৎ স্থল বন্দর বেনাপোলকে ঘিরে একটি শক্তিশালী চোরাচালানী সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ভারতীয় ট্রাককে ব্যবহার করে বিভিন্ন চোরাচালানী পন্য আনা হচ্ছে বন্দরের কিছু অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীদের সহায়তায়। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, বেনাপোলের বেশ কিছু চিহ্নিত ট্রাক ড্রাইভার প্রতিদিন অবৈধভাবে রফতানি বোঝাই পন্য নিয়ে ভারতে যায়। ফেরার পথে ভারতের বনগাও ও কোলকাতার ট্রাক চালকদের সাথে চুক্তি করে বাংলাদেশী চালকরা ভারতীয় ওষুধ, কসমেটিকস, মাদক দ্রব্য, পোষাক, শাড়ী, থ্রীপিচ, খাদ্য দ্রব্যসহ বিভিন্ন পণ্য ভারতীয় ট্রাকের কেবিনে লুকিয়ে বহন করে বেনাপোল বন্দরে নিয়ে আসছে। মাঝে মধ্যে আমদানিকৃত বৈধ মালের সাথে এসব মালামালও আনা হচ্ছে। কখনও বন্দরের ট্রাক টার্মিনাল থেকে আবার কখনও বন্দরের অভ্যন্তর থেকে চোরাচালানী এসব পণ্য বাইরে বের করে দেয়া হচ্ছে। বৈধ আমদানিকৃত পন্যের সাথে আনা এসব চোরাচালানী পন্য বহনের কারণে বড় ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছে দেশের নামি দামি আমদানি কারকরা। ফলে ভয়াবহ আতংক বিরাজ করছে আমদানি কারকদের মাঝে। গত ৯ নভেম্বর সন্ধ্যায় কাই গ্রুপের ঢাকার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এ্যালটেক এলুমিনিয়াম লি: ভারত থেকে ১২ টন ৯০৮ কেজি এ্যালুমিনিয়াম ইন গড আমদানি করেন। যার বি/ই নাম্বার সি-৫৩০/৭৮। পণ্য চালানটি কায়িক পরীক্ষা করে ৪৮ লাখ টাকার রাজস্ব পরিশোধ করে বন্দর থেকে ১৪ টি ট্রাকে করে খালাশ নেয়ার সময় বন্দরের অভ্যন্তরে থাকা চোরাচালানী সিন্ডিকেট সদস্য শাহীন হাওলাদার ১৩ বান্ডেল ইনগড বোঝাই ঢাকা :মেট্র : ট ১৬-৮১৬৩ নাম্বারের ট্রাক ড্রাইভার লালন মিয়ার সাথে ভাড়া চুক্তি করে ১৪ বেল কাপড় লোড দেয়। ড্রাইভার লালন মিয়া মালের কাগজ পত্র চাইলে বলা হয় আধাঘন্টা পরে দেয়া হবে। এরই মধ্যে শুল্ক গোয়েন্দা টিম দ্রুত ঘটনা স্থলে এসে মালের কাগজপত্র চাইলে লালন মিয়া শাহীনকে খোজাখুজি করতে থাকে। ততক্ষনে পালিয়ে যায় শাহীন। কাস্টমস বৈধ পন্যের মধ্যে অবৈধপণ্য পাওয়ায় সব পন্য আটক করে। আমদানিকারক বছরে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার ভ্যাট প্রদান করেন সরকারকে। অথচ চোরাচালানী সিন্ডিকেটের কারনে আজ আমদানিকারককে বড় ধরনের হয়রানির শিকার হতে হলো। অন্যদিকে গত ১৮ নভেম্বর ভারত থেকে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠিত আমদানিকারক বিআরবি ক্যাবল লি:, পিডি লাইফ লি: ও পাওয়ারম্যান বাংলাদেশ লিমিটেড এর ৬ টি চালান নিয়ে ডাব্লুই বি-২৩বি ১২৪৫ নাম্বারের একটি ভারতীয় ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করে। ৫টি পন্যচালান বন্দরের ৯ নাম্বার শেডে আনলোডের পর পাওয়ারম্যান বাংলাদেশ লিমিটেডের ৫টি ইনট্যাক কাঠেরপেডি চালানটি বন্দরের ৪০ নাম্বার শেডে আনলোডের জন্য যাওয়ার সময় বন্দরের সামনের সড়ক থেকে বিজিবি ভারতীয় ট্রাকটি আটক করে। পরে ট্রাকের কেবিন তল্লাশী করে বাজারের ব্যাগে রক্ষিত ক্রিম, চকলেট, মদ, জিরা, কিসমিসসহ ট্রাকটি জব্দ করে বিজিবি ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। যার ওজন ১৫ কেজি। তল্লাশীর সময় ট্রাক ড্রাইভারকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করে যৌথ টিমের সদস্যরা। বৈধ রুটে বৈধ পন্যের সাথে আসা চালানটির ৫টি কাঠের পেডি খুলে তল্লাশী করে কোন অবৈধ পন্য পাওয়া যায়নি। অথচ আমদানিকারকের চালানটি আটক করা হয়। আমদানিকারক এখনও পর্যন্ত কোন সিএন্ডএফ এজেন্ট নিয়োগ দেয়নি পণ্যচালান খালাশের জন্য। এ ধরনের চোরাচালানী সিন্ডিকেটের কারণে বৈধ আমদানিকারকরা প্রতিনিয়তই নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। ফলে অনেক আমদানিকারকই বেনাপোল বন্দর থেকে পণ্য আমদানি না করে চট্রগ্রামে চলে গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে জরুরী ভিত্তিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে ব্যবস্থা গ্রহনের জণ্য জোর দাবি জানিয়েছে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো। ভারত বাংলাদেশ চেস্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এর ডাইরেক্টর মতিয়ার রহমান জানান, চোরাচালানী সিন্ডিকেটের কারনে বৈধ রুটে আমদানি করা ট্রাকে ড্রাইভারের কেবিনের ভেতর থাকা চোরাচালানী পন্য বহনের কারনে কেন বৈধ পণ্য আটক হবে। কেনই বা নামিদামি আমদানি কারকরা হয়রানির শিকার হবে, আমরা এর প্রতিকার চাই। বন্দরের ভেতর প্রতিটি শেডে অবৈধ বহিরাগত লোকজন আছে, তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে হবে। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এ্যালটেক এলুমিনিয়াম লি: এর সিএন্ড এফ প্রতিষ্ঠান ট্রিম ট্রেডের মালিক জিয়া উদ্দিন জানান, বন্দর একটি বৈধ বন্ডেড এরিয়া এখানে কিভাবে চোরাচালানী সিন্ডিকেট গড়ে উঠলো, আর সরকারকে ৪৮ লাখ টাকা রাজস্ব পরিশোধ করে কেনই বা আমাদের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। জরুরী ভিত্তিতে বন্দরের অভ্যন্তরে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে আন অথরাইজড লোকজনকে আটক করতে হবে। বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার মো: আজিজুর রহমান জানান, চোরাচালানী সিন্ডিকেটের কারণে বৈধ আমদানিকারকরা প্রতিনিয়তই নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন বন্দরে। বিষয়টি নিয়ে জরুরী একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্ত করা হবে। কাস্টমস এর পক্ষ থেকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে চোরাচালানীদের বিরুদ্ধে।

সংযুক্ত থাকুন