সোমবার, ১৯ এপ্রিল ২০২১
Logo
ভবদহ অঞ্চলে বোরো আবাদ অনিশ্চিত : দুঃচিন্তায় কৃষক

ভবদহ অঞ্চলে বোরো আবাদ অনিশ্চিত : দুঃচিন্তায় কৃষক

যশোরের দুঃখ খ্যাত ভবদহ অঞ্চলে এবার বোরো আবাদ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এনিয়ে দুঃচিন্তায় পড়েছে কৃষক পরিবার। এদিকে বোরো আবাদের লক্ষমাত্রা অর্জিত হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে কৃষি কর্মকর্তা।

 

তবে তিনি দাবি করেছেন, ভবদহের বিকল্প আমডাঙ্গা খাল দিয়ে যে পরিমাণ পানি নিষ্কাশন হচ্ছে তার গতি যদি বৃদ্ধি করা যায় তাহলে এবারের বোরো আবাদের লক্ষমাত্রা অর্জন অনেকাংশে সম্ভব হবে। তবে এলাকাবাসির দাবি সরকারী সহযোগীতা ছাড়া আমডাঙ্গা খাল দিয়ে পূর্ণ পানি নিষ্কাশন সম্ভব না।

 

তাদের অভিযোগ, এনিয়ে কোন চিন্তা নেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাথাভারী কর্মকর্তাদের। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ভবদহ অঞ্চলের বিল বোকড়, বিল কেদারিয়া, বিল ঝিকরাসহ যে সমস্ত বিলে উল্লেখ যোগ্য পরিমাণ ধান চাষ হয়ে থাকে সেসব বিলে এবারও বোরো আবাদ হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

 

কারণ বোরো চাষের সময় ঘনিয়ে আসলেও এখনও পর্যন্ত কৃষকরা তৈরী করতে পারেনি বীজতলা। এখনই বীজতলা তৈরী করতে না পারলে বোরো চাষ করা কোনভাববেই সম্ভব নয়। তবে আমডাঙ্গা খাল দিয়ে পানি যে পরিমাণ নিষ্কাশন হচ্ছে তাতে যদি স্রোতের গতি বৃদ্ধি করা যায় তাহলে অন্ততপক্ষে আপাতত উপরের জমিতে বীজতলা তৈরী করা যেতে পারে।

 

এবং সরকারী সহযোগীতায় আমডাঙ্গা খালকে সম্প্রসারণ করে খালের আকার বৃদ্ধি ও তলদেশ গভীর করা যায় তাহলে অধিকাংশ জমি চাষের আওতায় আনা সম্ভব। তা নাহলে ভেঙ্গে পড়বে এলাকার অর্থনীতি। পরিবার পরিজন নিয়ে পথে বসতে হবে ওই সব কৃষক পরিবারগুলির এবং মারাত্মক প্রভাব পড়বে গবাদি পশুর খাদ্যের উপর।

 

গো-খাদ্যের সংকটে নিঃশ্ব হবে খামারীরা। আমডাঙ্গা খাল খনন কমিটির আহবায়ক ইউপি মেম্বর ইকবাল হোসেন জানান, এবছর বোরো আবাদের উপর ব্যাপক প্রভাব পড়বে। কৃষক পরিবারগুলি যদি এবারের ধান চাষ করতে না পারে তাহলে চরম বিপাকে পড়বে ওই সব পরিবার।

 

তাদের পাশে দাড়ানোর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং বিএডিসি’র কার্যকরী ভূমিকা দরাকার। তারা যদি এখনও পর্যন্ত চেষ্টা করে তাহলে হয়তবা সম্পূর্ণ জমি চাষ করতে না পারলেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমি চাষ করে কিছুটা হলেও ঘুরে দাড়াতে পারবে কৃষকরা।

 

আমডাঙ্গা খাল সংস্কার কমিটির অন্যতম ধোপাদী গ্রামের আ: রউফ মোল্যা জানান, আমরা জনগণ নিয়ে খালের ব্লক অপসারণসহ খাল থেকে ময়লা আবর্জনা পরিস্কার করে খালের স্রোতের গতি বৃদ্ধি করেছি।

 

এখন সরকারী সহযোগীতা দরকার। পানি উন্নয়ন বোর্ড যদি খালের দু’পাড় বৃদ্ধি করে সম্পূর্ণ খাল পরিস্কার করে তাহলে আমরা এবারই ধান চাষ করতে পারব। আর তা না হলে কৃষক পরিবার তাদের থালা বাটি নিয়ে খালের পাশের মহাসড়কে অবরোধ করে সরকারকে বাধ্য করবে খাল পু:ন খনন করতে। কারণ এটা আমাদের বাঁচা মরার লড়াই।

 

এ লড়াইয়ে আমাদের জিততেই হবে। না জিতলে ভবদহ অঞ্চলের মানুষরা বেচে থাকতে পারবেনা। ভবদহ পানি নিষ্কাশন কমিটির আহবায়ক ও অভয়নগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব এনামুল হক বাবুল জানান, আমডাঙ্গা খাল নিয়ে সরকার যদি অতি দ্রুত পদক্ষেপ নেয় তাহলে বোরো আবাদ সম্ভব। তা নাহলে এবছর বোরো আবাদ করা কোন ভাবেই সম্ভব নয়।


তাছাড়া আমডাঙ্গা খালের দুই পাশে খনন করে আরও বৃদ্ধি করতে হবে। না করতে পারলে কৃষক পরিবারগুলি পথে বসবে। তাদের বাঁচাতে গেলে সরকারী সহযোগী অবশ্যই প্রয়োজন।

 

অভয়নগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গোলাম সামদানি জানান, এবছর অভয়নগর উপজেলায় বোরো আবাদের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪ হাজার হেক্টর জমি।


কিন্তু লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কোনভাবেই সম্ভব নয়। অপর প্রশ্নের জাবাবে তিনি জানান, আমডাঙ্গা খাল দিয়ে যেভাবে পানি নিষ্কাশন হচ্ছে এভাবে নিষ্কাশন হলে হয়তবা অনেক খানি অর্জন সম্ভব তা না হলে লক্ষমাত্রা অর্জন নিয়ে শঙ্কায় থেকে যাবে।

 

তিনি আরও জানান, গত মিটিংয়ে আমডাঙ্গা খাল নিয়ে বিএডিসি’র কর্মকর্তাদের সাথে কথা হয়েছে, তারা জানিয়েছে বিষয়টি নিয়ে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করা হচ্ছে। ভবদহের বিকল্প হিসেবে আমডাঙ্গা খালকে সম্প্রসারণ করে পানি নিষ্কাশন করার ব্যবস্থা করা হবে।

সংযুক্ত থাকুন