শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০
Logo
ভৈরব নদীর বুকে নদী খেঁকোদের আবারও থাবা : ভেস্তে যাচ্ছে ড্রেজিংয়ের সুফল

ভৈরব নদীর বুকে নদী খেঁকোদের আবারও থাবা : ভেস্তে যাচ্ছে ড্রেজিংয়ের সুফল

দেশের বৃহত্তম সারের মোকাম যশোরের শিল্প বাণিজ্য ও বন্দর নগর নওয়াপাড়ার প্রাণ ভৈরব নদীকে ধ্বংস করতে আবারও থাবা বসিয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালী নদী খেঁকোরা। কোন ভাবেই যেন এ নদী খেঁকোদের নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছেনা। নদীটিকে যেন গলা চিপে ধরেছে এসকল স্বার্থান্বেষী ব্যবসায়ীরা। এবার নদীর মাঝ বরাবর পর্যন্ত দখলে নিয়ে নিয়েছে তারা। [embed]https://www.youtube.com/watch?v=wJSTpf44x-g[/embed] ফলে নাব্যতা হ্রাস পেয়ে নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাচ্ছে। আর যা সামাল দিতে সরকারকে শত শত কোটি টাকা গচ্চা দিয়ে নদী ড্রেজিং অব্যাহত রাখতে হচ্ছে। তবে নদী খেঁকোরা নদীর বুকে এমনভাবে থাবা বিস্তার করেছে যে সরকারের ড্রেজিং ব্যবস্থার সুফলও সম্পূর্ণ রূপে ভেস্তে যাচ্ছে। আর এসব কিছু দেখেও কোন মাথা ব্যাথা নেই নদী বন্দর কর্তৃপক্ষের।   দৈনিক নওয়াপাড়ার পক্ষ থেকে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ইতিপূর্বে যে সমস্ত ঘাটে বাশের জেটি বানিয়ে মালামাল উঠানামা করা হতো সেসকল ঘাটে বিভিন্ন ধরনে গাছের বল্লি পাইলিং করে নদীর প্রায় ২৫ থেকে ৩০ ফুট দখল করে ইট-পাথরের খোঁয়া দিয়ে ভরাট করা হয়েছে। এবং এই ভরাটকৃত জেটির উপর লং-বুম নামক স্কেভেটর স্থাপন করে কার্গো থেকে বিশেষ করে কয়লা, পাথর ও সিলেট বালি নামানো হচ্ছে।   লং-বুম বসানোর জন্য প্রায় প্রতিটি ঘাটে নদীর মধ্যে এই ধরনের জেটি নির্মান করার ফলে ভৈরব নদীর জোয়ার-ভাটা মারাত্মকভাবে বিঘ্ন ঘটছে। যার জন্য পলিমাটি দাড়িয়ে নদী পুণরায় ভরাট হয়ে যাচ্ছে। গত প্রায় দুই বছর যাবৎ কয়েকশ’ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রথম শ্রেনির নৌ-বন্দর হিসেবে নওয়াপাড়া বন্দরের ভৈরব নদীর মজুতখালি নামক স্থান থেকে বসুন্দীয়রা এলাকার অফরা ঘাট পর্যন্ত নদী ড্রেজিংয়ের কার্যক্রম চলছে।   স্বাধীনতার পর বর্তমান সরকার প্রধান শেখ হাসিনার অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি নদী বন্দর এলাকাকে আধুনিক বন্দর ও নদীর নাব্যতা সার্বক্ষনিক প্রবাহমান রাখতে ব্যাপক কার্যক্রম চলছে। তারই আওতায় খুলনা থেকে নড়াইলের তুলারামপুর পর্যন্ত ভৈরব নদীর জোয়ার-ভাটার স্রোতধারা এবং যশোর শহর থেকে বুড়ি ভৈরবকে খনন করে মুল ভৈরব নদীর সাথে সংযোগ করে ভৈরব নদীর ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনার জন্যই ড্রেজিং ব্যবস্থা এখনও পর্যন্ত সচল রয়েছে।   নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিআইডব্লিউটিএ এর জনৈক কর্মকর্তা দৈনিক নওয়াপাড়াকে জানান, নওয়াপাড়া নদী বন্দর এলাকায় পরিকল্পিতভাবে ড্রেজিং করার পরও নদী দ্রুত পুণঃভরাট হয়ে যাচ্ছে। এর প্রধান কারন হিসেবে তিনি বলেন, নওয়াপাড়া নদী বন্দরের চেঙ্গুটিয়া লবন মিল ঘাট, মহাকালের দ্বিপু স্টোন ঘাট, নূর সিমেন্ট ঘাট, মাস্টার ঘাট (বেগ ঘাট), মালোপাড়া ঘাট, মশরহাটির পরশ আটা-সুজি-ময়দা মিলের মালিক আনিসুর রহমান ওরফে ছোট আনিসের ঘাট, সিডল টেক্সটাইল মিলস্ ঘাটের উপর নির্মিত ডলার ঘাট ও নওয়াপাড়ার বোয়ালমারী পোলের নিকটস্থ এলাকায় স্থাপিত জয়েন্ট ট্রেডিংয়ের নিজস্ব ঘাটে অবৈধভাবে নদীর মধ্যভাগের দিকে ২৫ থেকে ৩০ ফুট প্যালাসাইডিং তৈরি করে বালুর বস্তা, ইটের আধলা, পাথরসহ অন্যান্য সামগ্রী দিয়ে জেটি নির্মাণ করে নদীর স্রোতকে মারাত্মকভাবে বাঁধাগ্রস্থ করে রেখেছে।   যে কারনে নদীর স্বাভাবিক স্রোত বিঘ্ন হয়ে সাগর থেকে আসা পলি দ্রুত ভৈরব নদীর তলদেশকে ভরাট করে ফেলছে। এভাবে চলতে থাকলে বছরের পর বছর ড্রেজিং করেও ভৈরব নদীকে রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। তিনি আরও জানান, বিআইডব্লিউটিএ এর নদী বন্দর এলাকায় বিশেষ করে ভৈরব সেতুর পাশে আনিছুর রহমান ওরফে ছোট আনিস নামের একজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী নদীর প্রায় মাঝ বরাবর অবৈধ দখল করে ৬ টি জেটি নির্মাণ করেছে নদীর মধ্যে। এবং ভৈরব নদীর বাঁক পরিবর্তন করে নদীর স্বাভাবিক গতিকে বাঁধাগ্রস্থ করে নাব্যতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করছে।   এসকল অবৈধ জেটির ব্যাপারে নওয়াপাড়া হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ফাল্গুন মন্ডলের সাথে আলাপ করলে তিনি বলেন, নদীর ঘাট গুলোতে অটোমেটিক ক্রেন বসালে তাতে নদীর কোন ক্ষতি হবেনা বলে তাদের ধারনা। তবে অবৈধভাবে নদী দখল করে প্যালাসাইডিং জেটি নির্মাণ করার কারনে ভৈরব নদীর নাব্যতা দিনে দিনে ধ্বংস হয়ে যাবে।   এবং নদী না বাঁচলে এ বন্দরে খেটে খাওয়া প্রায় বিশ হাজার শ্রমিকের সাথে জড়িত এক লাখ মানুষ বেকার হয়ে পড়বে। যে কারনে দ্রুত এসকল অবৈধ জেটি নদী থেকে অপসারণ করে নদীকে বাঁচানোর জন্য বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, নদী মেরে ফেলার উদ্যেশ্যে ভৈরব নদীর এসকল নদী খেঁকোদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে অবৈধ জেটি গুলো অপসারণ না করলে ভৈরব নদীকে বাঁচাতে এবং পাশাপাশি হাজার হাজার শ্রমিকদের পরিবার পরিজনদের জিবীকা নির্বাহের স্বার্থে তারা বৃহত্তর আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি গ্রহন করছে।

সংযুক্ত থাকুন