সোমবার, ২১ জুন ২০২১
Logo
মণিরামপুরে আম্ফান ঝড়ের তান্ডব : একই গ্রামে নিহত ৫ পরিবারের খোঁজ নেয়নি কেউ

মণিরামপুরে আম্ফান ঝড়ের তান্ডব : একই গ্রামে নিহত ৫ পরিবারের খোঁজ নেয়নি কেউ


মণিরামপুরে আম্ফান ঝড়ের তান্ডবে উপজেলার একই গ্রামের নিহত ৫ পরিবারের খোঁজ রাখেনি কেউ। প্রায় বছর পার হলেও হতদরিদ্র এসব পরিবারে আজও জোটেনি নিহতদের স্বামী অথবা স্ত্রীদের বিধবা কার্ড, বাড়ি অথবা সরকারী অন্য কোন সাহায্য-সহযোগিতা।


ঝড়ের কয়েকদিন পর প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের মাধ্যমে নিহতদের পরিবারের হাতে ২০ হাজার করে টাকা দেয়া হয়। ওই পর্যন্তই আর কেউ ফিরেও তাকাইনি হতভাগ্য ওই পরিবারগুলোর দিকে। জনপ্রতিনিধিদের কাছে বার বার ধর্না দিয়েও মেলেনি সরকারি ঘর বা অন্য কোন সহযোগিতা। তাদের দেয়া আশ্বাসে থেকে বছর পার হতে চলেছে। অনেকে আবার ভোটের পর করে দেবার আশ্বাস দিয়েছেন। সোমবার নিহতদের স্বজনদের অনেকেই এসব কথা বলছিলেন আর শাড়ির আঁচল দিয়ে চোখের পানি মুছছিলেন।


জানাযায়, গত বছরের ২০ মে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ওপর দিয়ে বইয়ে যাওয়া স্বরণকালের ভয়াবহ আম্ফান তান্ডবে টিনের বেড়া ঘেরা বাড়ির ওপর গাছ পড়ে নিহত হন খোকন দাস (৬৫) ও তার স্ত্রী বিজন দাসী (৫৫), নজরুল ইসলাম ওরফে ওয়াজেদ আলী ও তার ছেলে ইছহাক আলী (১৮) এবং বৃদ্ধা আছিয়া বেগম (৭০)।


নিহতরা সকলেই উপজেলার পারখাজুরা গ্রামের বাসিন্দা। ওই দিন গাছ চাপায় গুরুত্বর আহত উপজেলার সরসকাটি গ্রামের কামাল হোসেন নামের আরেক ব্যক্তি ৪দিন পর মারা যান। নিহত খোকন দাস ও বিজন দাসীর বড় মেয়ে দিপালী দাস বলেন, ‘তাদের কোন ভাই না থাকায় বাপ-মায়ের কাছে থাকতাম। ঝড়ের কয়দিন পরে বাবা-মার সৎকারের সময় ৪০ হাজার টাকা দিছিল। এরপর থেকে কেউ ফিরেও তাকাইনি।


ঘরের জন্যি মেম্বর-চেয়ারম্যানের কাছে গেলিও শুধু আশ^াস দেয়।’ বাধ্য হয়ে দিপালী দাস স্বামী-সন্তান নিয়ে বাপের ভিটায় পলিথিন আর টিন ঘেরা বাড়িতে কোন রকম মাথা গুজে আছেন। গাছ চাপাই বাড়ি ভেঙ্গে যাবার পর অর্থাভাবে আর সংস্কার করা হয়ে উঠেনি। নিহত ওয়াজেদের বাড়িতে গেলে দেখা যায় তার স্ত্রী মেহেরুন্নেছা পরের বাড়িতে ধান ঝাড়ার কাজ করছেন। স্বামী নজরুল ইসলাম ওরফে ওয়াজেদ আলী ও তার ছেলে ইসহাক আলী নিহত হওয়ার পর থেকে তিনি ছোট ছেলেকে নিয়ে আলাদা থাকেন।


এসময় মেহেরুন্নেছা ঘোমটার মধ্যে শাড়ির আঁচল দিয়ে চোখের পানি মুছছিলেন আর বলছিলেন, স্বামী মারা যাবার পর তিনি ছোট ছেলেটাকে নিয়ে বেকায়দায় আছেন। অভাব-অনটনের সংসারে অনাহারে-অর্ধহারে দিনাতিপাত করতে হয়। বাধ্য হয়ে পরের বাড়িতে ঝিয়ের কাজসহ শ্রমিকের কাজ করছি। ছোট ছেলেটাকে নিয়ে তিনি আলাদা থাকেন।

 

কয়কেদিন করে মেম্বরের কাছে সরকারি ঘর ও বিধবা কার্ডের জন্য গেলেও ভোটের পরে করে দিবেন বলে তাকে আশ্বাস দেয়া হয়েছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, আম্ফান ঝড়ের পর থেকে বিধবা কার্ড বরাদ্দ দেয়া হয়নি। আর সরকারি বাড়ির জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বলা হয়েছিল। কিন্তু কি কারনে পাইনি, সেটাও খোঁজ নিতে পারিনি।

সংযুক্ত থাকুন