মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১
Logo
মণিরামপুরে কলেজ ছাত্র বোরহান হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে উত্তাল মণিরামপুর

মণিরামপুরে কলেজ ছাত্র বোরহান হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে উত্তাল মণিরামপুর

শিক্ষার্থীদের থানা ঘেরাওসহ মানববন্ধন





কলেজ ছাত্র বোরহান কবিরকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে মণিরামপুর। সোমবার মণিরামপুর পৌরশহরে দিনভর এ হত্যার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার পূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে শিক্ষার্থীরা দফায় দফায় বিক্ষোভ প্রদর্শন ও মানববন্ধন করে। গত শনিবার উপজেলার খালিয়া এলাকায় ছিনতাইকারির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে বোরহানকে নৃশংসভাবে মারপিট করা হয়। পরদিন রবিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।


মণিরামপুর সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রকে এভাবে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বোরহানের সহপাঠীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। রবিবার বোরহান হত্যার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের দাবিতে থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়।


পরে থানা পুলিশের আশ্বাসে পরিস্থিতি শান্ত হলেও পরদিন ফের জড়িতদের গ্রেফতার পূর্বক দৃৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের সামনে কয়েক’শ শিক্ষার্থী বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। পরে সেখানে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করা হয়।


এসময় উপজেলা নিবাহী অফিসার সৈয়দ জাকির হাসানের কাছে স্মারকলিপি দেয়া হয়। আগের দিন থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভকারীরা বোরহান হত্যাকান্ডে ঝাঁপা ইউপি চেয়ারম্যান শামছুল হক মন্টুকে দোষারোপ করে তাকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে শ্লোগান দেয়।


সেখানে থানার ওসি (সার্বিক) রফিকুল ইসলাম উপস্থিত হয়ে হত্যাকান্ডের তদন্তে ইউপি চেয়ারম্যানের সম্পৃক্ততা পেলে অবশ্যই তাকে আইনের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দেন। পরে বিক্ষোভকারীরা থানা ঘেরাও কর্মসূচী স্থগিত করেন।


শিক্ষার্থীরা একই দাবী নিয়ে সোমবার দুপুরে ইউএনও অফিসের সামনে মানববন্ধন করে। নিহত বোরহানুল কবির পৌরশহরের মোহনপুর এলাকার ট্রেগার চালক আহসানুল কবিরের ছেলে। সে মণিরামপুর সরকারি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার খালিয়া গ্রামের রাস্তার পাশে কৃঞ্চবাটি গ্রামের নূর ইসলামের ছেলে নাইম হোসেনসহ কয়েক ব্যক্তি ছিনতাইকারী অপবাদ দিয়ে বোরহানকে মারপিট করে।


এক পর্যায়ে ছিনতাইকারী বলে চিৎকার করলে আশাপাশের লোকজন এসে বোরহানকে বেধড়ক মারপিট করে রক্তাক্ত করে। পরে খবর পেয়ে বোরহানের অভিভাবকরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তির পর পরবর্তিতে তাকে নেওয়া হয় যশোর ২শ’৫০ শয্যা হাসপাতালে। সেখানে অবস্থার অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য শনিবার রাতেই ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে রবিবার সকালে চিকিৎসকরা বোরহানকে মৃত ঘোষনা করেন।


এ ঘটনায় নিহতের পিতা বাদি হয়ে মণিরামপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার পর মোটরসাইকেলসহ প্রধান হত্যাকারী নাঈম হোসেনকে আটক করে পুলিশ।

সংযুক্ত থাকুন