রবিবার, ১৩ জুন ২০২১
Logo
মণিরামপুরে মহাসড়কের মূল্যবান কাঠ স’মিলে চেরাই করতে গিয়ে হাতে-নাতে ধরা

মণিরামপুরে মহাসড়কের মূল্যবান কাঠ স’মিলে চেরাই করতে গিয়ে হাতে-নাতে ধরা

ইউপি চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদের কর্মচারীর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ

যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের (মণিরামপুর অংশের) মেহগনি গাছের মূল্যবান কাঠ স’মিলে চেরাই করতে গিয়ে হাতে-নাতে ধরা পড়েছে। রোববার উপজেলার কুয়াদা বাজারের খালেক স’মিল থেকে মেহগনি গাছের লগ ও চেরাই করা কাঠ উদ্ধার করে জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ।

 

এসময় স’মিলের মিস্ত্রী ও মালিক স্বাক্ষরিত এক লিখিত স্বীকারোক্তিতে উপজেলার ভোজগাতি ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক ও জেলা পরিষদের আল-আমিন নামের এক কর্মচারীর সংশ্লিষ্টতা উল্লেখ করেছে বলে জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার নিশ্চিত করেছেন।তবে, চেয়ারম্যান দাবি করেছেন, তিনি লগ ওই কর্মচারীর কাছ থেকে কিনেছিলেন।

 

জানা যায়, সম্প্রতি যশোর-চুকনগর মহাসড়ক প্রশস্তকরনসহ সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। এ কারনে মহাসড়কের দুই পাশের প্রায় শতবর্ষী মেহগনিসহ বিভিন্ন প্রজাতির মূল্যবান গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। কেটে ফেলা গাছের মধ্যে বড় আকৃতির মেহগনি ও রেইনট্রি গাছ রয়েছে। এরমধ্যে আকৃতিতে বড় মেহগনি গাছ যার অধিকাংশের প্রতিটির মূল্য প্রায় ৫০ হাজার টাকা থেকে দুই লক্ষ টাকা হবে বলে অনেকেই ধারনা করেন।

 

শুরুতেই এ গাছ নিজেদের দাবি করে সড়ক ও জনপদ বিভাগ, জেলা পরিষদ ও বনবিভাগের মধ্য টানাপড়েন চলে। এ সুযোগে মহাসড়কের কেটে ফেলা বড় আকৃতির মেহগনি, রেইনট্রিসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ হরিলুট হতে থাকে। পরে সমঝোতায় বড় আকৃতির বিভিন্ন প্রজাতির গাছ জেলা পরিষদের এবং অন্য গাছ বনবিভাগের আওতায় ভাগ করে নেয়া হয়।

 

এদিকে গাছ কেটে ফেলার পর থেকেই জেলা পরিষদের এক শ্রেণির অসাধু কর্মচারীর বিরুদ্ধে গাছের লগ চুরির অভিযোগ ছিল। এমনও ঘটনা লোকমুখে চাওর আছে যে একজন একটি গাছের লগ চুরি করে নিরাপদ জায়গায় রেখেছে। সেই লগ আবার তৃতীয় আরেক পক্ষ গায়েব করে দিয়েছে। অথচ চোরাই কাঠ বলে প্রথমজন ধরা খাওয়ার ভয়ে প্রতিবাদও করতে পারেনি।

 

এদিকে উদ্ধারকৃত মেহগনি গাছের লগ ও চেরাই করা কাঠ একই ভাবে খালেক স’মিলে চুরি করে বিক্রি করা হয়েছে। স’মিলের প্রধান মিস্ত্রী আব্দুল লতিফ বলেন, শনিবার আছরের নামাজের পর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক ও আল-আমিন নামের জেলা পরিষদের কর্মচারী আলমসাধুতে মেহগনি গাছের লগ নিয়ে আসেন।

 

জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার এমএম মঞ্জুর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় স’মিলের মিস্ত্রী আব্দুল লতিফ ও মিল মালিকের স্বাক্ষরিত একটি লিখিত স্বীকারোক্তি নেয়া হয়েছে। যেখানে ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক ও জেলা পরিষদের কর্মচারী আল-আমিনের নাম উঠে এসেছে।

 

জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী মোঃ আরিফ উজ্জামান জানান, ঘটনা শুনেছি, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিকুল জানান, এ ঘটনায় যারাই জড়িত তাদের ছাড় দেয়া হবে না।

সংযুক্ত থাকুন