বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২১
Logo
মণিরামপুরে সমন্বিত উদ্যোগে জলাবদ্ধতা নিরসনের চেষ্টা

মণিরামপুরে সমন্বিত উদ্যোগে জলাবদ্ধতা নিরসনের চেষ্টা

যশোরের মণিরামপুরের হরিদাসকাঠি সম্বোলডাঙা বিলে দেড় হাজার বিঘা জমি পানিতে তলিয়ে রয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে গত মৌসুমে আমন চাষ করতে পারেননি এই বিলের কৃষকরা।

 

সামনে বোরো মৌসুম। এবারও কৃষকদের জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকার নেয়নি কোন উদ্যোগ। কৃষকরা নিজেদের খরচে পানি সেচার কাজ শুরু করেছেন। ১২টি ডিজেল ইঞ্জিন ভাড়ায় এনে কৃষকরা গত ১৭ দিন পানি সেচের কাজ করছেন। 

 

শনিবার সরেজমিন হাজরাইল এলাকায় গিয়ে কৃষকদের পানি সেচে মুক্তেশ^রী নদীতে ফেলতে দেখা গেছে। ভোমরদহা গ্রামের ইদ্রিস গাজী নামে এক কৃষক কেশবপুর এলাকা থেকে ডিজেল ইঞ্জিনগুলো ভাড়া এনে ৫০জন শ্রমিক লাগিয়ে বিল সেচার কাজ করছেন। শ্রমিকরা সবাই সম্বোলডাঙা বিলের কৃষক।

 

হরিদাসকাঠি ইউনিয়নের ভোমরদহা, সুবলকাঠি, শ্রীপুর ও হাজরাইল চার গ্রাম মিলে সম্বোলডাঙা বিল। জমির পানি সরাতে কৃষককে বিঘাপ্রতি গুনতে হচ্ছে ৫শ’-হাজার টাকা। গত চার বছর ধরে এভাবে নিজেদের খরচায় জমির পানি সরিয়ে বোরো চাষ করতে হচ্ছে কৃষকদের। বিরামহীন রাতদিন চলছে ডিজেল ইঞ্জিনগুলো।

 

কৃষকরা জানান, মূলত বিলের পানি ঢাকুরিয়া খাল হয়ে পাঁচবাড়িয়া স্লুইজগেট দিয়ে মুক্তেশ^রী নদীতে পড়ে। সেই পানি ভবদহ হয়ে নেমে যেত। কিন্তু ভবদহে পলি জমায় সেখান দিয়ে পানি সরছে না। সেই কারণে মুক্তেশ্বরী নদীতে স্্রোত নেই। ফলে সম্বোলডাঙা বিলের পানি সরতে না পেরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

 

শীত মৌসুম আসলেও এখনো বিলে ২-৫ ফুট পানি জমে আছে। ভোমরদহ গ্রামের কৃষক অনিমেশ সরকার বলেন, বিলে এক একর জমি রয়েছে। আমন করতে পারিনি। রোবো ধান করার আশা আছে। বোরো ধান না লাগাতে পারলে খাব কি! উদ্যোক্তা ইদ্রিস আলী বলেন, বিলের পানি সরাতে জমির মালিকরা সবাই উদ্যোগ নিয়ে কাজ শুরু করেছি।

 

গত ৪ বছর ধরে পানি আটকে থাকায় আমরা ব্যাক্তি উদ্যোগে ডিজেল ইঞ্জিন দিয়ে পানি সরাচ্ছি। এইবারসহ আমি দুইবার দায়িত্ব নিয়েছি। তিনি বলেন, কেশবপুর এলাকা থেকে দৈনিক ৬শ’ টাকা চুক্তিতে প্রতিটি মেশিন ভাড়া করা। পুরো পানি সরাতে দেড়মাস লাগবে। সবাই টাকা দেবে না। মোট ১৬-১৮ লাখ টাকা খরচ হবে। আমার নিজের ১৮-২০ বিঘা জমি রয়েছে।

 

লাভের আশা করছি না। নিজেদের স্বার্থে একাজ হাতে নেওয়া। হাজরাইল এলাকার মেম্বর আমজাদ হোসেন বলেন, আমরা বিঘাপ্রতি ১ হাজার টাকা করে দিচ্ছি। বিলের সব মাছ ধরে ওরা বেচে নেবে।

 

প্রায় সাত-আট লাখ টাকার মাছ বেচতে পারবে। ওদের লস হবে না। মণিরামপুর উপজেলা বিএডিসি অফিসের উপসহকারী প্রকৌশলী আকতার হোসেন বলেন, বিল কপালিয়ার পানি সরাতে সরকারি খরচে কাজ চলছে। সম্বোলডাঙা বিলের বিষয়টি আমার জানা নেই।

সংযুক্ত থাকুন