শনিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২১
Logo
মণিরামপুর-কুলটিয়া সড়কের সংস্কার কাজ দুই বছরেও শেষ হয়নি!

মণিরামপুর-কুলটিয়া সড়কের সংস্কার কাজ দুই বছরেও শেষ হয়নি!

যশোরের মণিরামপুর বাজার-কুলটিয়া সড়কটির সংস্কার কাজ দুই বছর আগে শুরু হলেও এখনো শেষ হয়নি। ইটের খোয়া দেয়ার পর পিচ না দিয়ে কাজ ফেলে রেখেছেন ঠিকাদার। দীর্ঘদিন এভাবে রাস্তা পড়ে থাকায় বড়বড় খোয়া উঠে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

 

রাস্তা ভেঙে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে কয়েক জায়গায়। খোয়া ভেঙে ধুলোয় পরিনত হওয়ায় দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে রাস্তার দুইধারের বাড়ি গুলো। দুই বছর ধরে রাস্তাটির বেহাল দশা হলেও সেদিকে নজর নেই সংশ্লিষ্টদের।

 

মণিরামপুর-কুলটিয়া ভায়া মাসনা সড়কটির দৈর্ঘ্য ১২ কিলোমিটার। পূর্বের পিচ নষ্ট হওয়ায় পুন:নির্মানের জন্য রাস্তাটি দুই ভাগে বিভক্ত করে ২০১৯ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি কার্যাদেশ জারি করেন জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী।

 

৬ কোটি ৬৯ লাখ টাকা ব্যয়ে মণিরামপুর থেকে বাগডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার রাস্তা পুন:নির্মাণের কাজ পান যশোরের ঠিকাদার জহুরুল ইসলাম।

 

সেখান থেকে মশিয়াহাটী পর্যন্ত ৫ কিলোমিটারের কাজ পান অন্য ঠিকাদার। ওই সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি কাজ শুরু হয়ে চারমাস সময় নিয়ে ২৮ জুন শেষ করার কথা ছিল। বাগডাঙা স্কুল থেকে মশিয়াহাটী পর্যন্ত রাস্তার কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ হলেও বিপত্তি ঘটে মণিরামপুর থেকে বাগডাঙা স্কুল পর্যস্ত ৭ কি.মি. সড়কের কাজে।

 

ঠিকাদার জহুরুল ইসলাম কাজ শেষ না করে ফেলে রেখেছেন দুই বছর। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন সড়কটিতে চলাচলকারী পথচারীরা। আটপাখিয়া গ্রামের থ্রি হুইলার চালক আব্বাস উদ্দিন বলেন, আমি এই রাস্তায় গাড়ি চালাই।

 

বড়বড় খোয়া উঠায় চলাচল করা যাচ্ছে না। গাড়ির টায়ার ও বডি নষ্ট হচ্ছে। প্রায়ই গাড়ি গ্যারেজে নিতে হচ্ছে। যা আয় হয় গাড়ির পিছনে খরচ করে বাড়ি নেয়া যায় না। কারো নজর এদিকে নেই। বেগমপুর গ্রামের আতিয়ার রহমান বলেন, রাস্তা কয়েক জায়গায় ভেঙে গেছে। ট্রাক চলাচল করলে ইটের ধুলোয় আশপাশের বাড়ি ভরে যাচ্ছে।

 

রাস্তার পাশের বাড়ির মানুষ খুব কষ্টে আছেন। ইটের ধুলো থেকে বাঁচতে দিনে দুইবার রাস্তায় পানি দিতে হচ্ছে। তাতেও রক্ষা হচ্ছে না। রাস্তার কাজ দেখভালের দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী গাউসুল আজম বলেন, বারবার ঠিকাদারকে চিঠি দেয়া হচ্ছে। কাজ ধরবে বলে ঠিকাদার প্রতিবার কথা দিচ্ছেন।

 

কিন্তু কাজ করছেন না। জানতে চাইলে ঠিকাদার জহুরুল ইসলাম বলেন, আর্থিক সমস্যা ছিল। করোনার জন্য একবছর কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে। একমাসের মধ্যে কাজ শুরু করা হবে। মণিরামপুর উপজেলা প্রকৌশলী সানাউল হক বলেন, আমি নতুন এসেছি। এই ব্যাপারে কিছু বলতে পারছি না। খোঁজ নিয়ে দেখছি।

সংযুক্ত থাকুন