শনিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২১
Logo
মহাসড়কে বৈদ্যুতিক পোল ভাঙ্গায় স্থানীয়দের মাঝে আতংক

মহাসড়কে বৈদ্যুতিক পোল ভাঙ্গায় স্থানীয়দের মাঝে আতংক

নওয়াপাড়াবাসীর স্মরণকালে সীমাহীন দূর্ভোগের একদিন

গত শনিবার স্মরণকালের সীমাহীন দূর্ভোগের শিকার হয়েছেন যশোরের শিল্প, বাণিজ্য ও বন্দর নগর নওয়াপাড়ার হাজার হাজার মানুষ। সেই সাথে দূর্ভোগ পোহাতে হয়েছে যশোর-খুলনা মহাসড়কে চলাচলরত হাজার হাজার যাত্রী সাধারণকে।


বিড়ম্বনার শিকার হয়েছেন সকল প্রকার যানবাহন চালকেরা। শহরের প্রতিটি বাড়িতে দেখা দেয় পানির জন্য হাহাকার। সকাল হতে রাত দেড়টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিহীন নগরী সন্ধ্যার পর থেকে যেন ভুতুড়ে নগরীতে পরিণত হয়। এদিন নওয়াপাড়ার ব্যবসা বানিজ্য থমকে দাড়ায়। বন্দরের ঘাটগুলোতে কমে যায় কর্মব্যস্ততা।

 

যশোর-খুলনা মহাসড়কের শিল্প শহর নওয়াপাড়ায় হাইওয়ে থানার সামনে মহাসড়কের উপর আচমকা তিনটি বৈদ্যুতিক খুটি ভেঙ্গে পড়ায় এ দূরাবস্থার সৃষ্টি হয়। এদিন দুপুর পৌণে দুইটার সময় হঠাৎ করেই মহাসড়কের উপর তিনটি খুটি গোড়া থেকে ভেঙ্গে পড়ে মহাসড়কের উপর। দেখতে দেখতে মহাসড়কের দুইপাশে শুরু হয় যানজট। যা তীব্র থেকে তীব্রতর আকার ধারণ করে।


যশোরের রূপদিয়া থেকে খুলনার ফুলতলা পর্যন্ত মহাসড়কের দুইপাশে দাড়িয়েথাকতে দেখা যায় বাস, ট্রাকসহ হাজারও যানবাহন। রাত ১০ টা অবধি এ যানজট লক্ষ করা যায়। দশটার পর থেকে ধীরে ধীরে যানযট মুক্ত হয় যশোর-খুলনা মহাসড়ক। দূর-দূরান্তের যাত্রীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হয়।


পোল ভেঙ্গে পড়ার পর পরই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি -২ এর নওয়াপাড়া জোনাল অফিসের ডিজিএম, এজিম কমসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা। কিন্তু মণিরামপুর থেকে নতুন বৈদ্যুতিক খুটি ও ভাঙ্গা পোল সরানোর ক্রেন আনতে পেরিয়ে যায় দীর্ঘ সময়। যা দূর্ভোগের মাত্রা বহুগুনে বাড়িয়ে দেয়। ৩৩ ও ১১ কেভির বৈদ্যুতিক পোল নওয়াপাড়া জোনাল অফিসের আওতায় অতিরিক্ত পোল না থাকায় অবস্থা ভয়াবহ আকার ধারন করে।


মহাসড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এদিন নওয়াপাড়ার ঘাট-গুদাম থেকে পন্য ট্রাকে লোন আনলোড বন্ধ হয়ে পড়ে। লোড ট্রাক গুলো গভীর অবধি দাড়িয়ে থাকে। ফলে এদিন ব্যবসা পাড়ায় কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হয়। তাছাড়া নওয়াপাড়া শহরের বাসিন্দারা পড়েন মহা বিপাকে। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় বন্ধ হয়ে যায় সপ্লাইয়ের পানি ও বাসা বাড়ির নিজস্ব মটর। ফলে নগরীর বাসিন্দারা পানির জন্য ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। আচমকা তিনটি বৈদ্যুতিক পোল ভেঙ্গে পড়া নিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগ ও স্থানীয়দের পৃথক বক্তব্য পাওয়া যায়।


পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তাদের দাবি যানবাহনের সাথে ধাক্কা লাগায় এ পোল তিনটি ভেঙ্গে পড়ে। যদিও স্থানীয়দের অভিযোগ নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে পোলগুলো নির্মাণ করায় নিজ থেকেই পোলগুলো ভেঙ্গে মহাসড়কের উপর পড়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, ভাঙ্গা পোলগুলোতে খোয়া বিহীন বালু-সিমেন্টের ঢালাই। যার মধ্যে নিম্নমানের কোনরকম চিকন রডের অস্তিত্ব টের পাওয়া যায়।


এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, প্রথমে যে পোলটি ভেঙ্গে পড়ে ওই পোলটি প্রায় এক দেড় বছর আগে যানবাহনের ধাক্কায় ফাটল দেখা দেয়। পরবর্তীতে পোলটি পরিবর্তণ না করে চারপাশে ঢালাই দিয়ে ফাটল দেখা দেয়া পোলটি ধরে রাখার চেষ্টা করা হয়। শনিবার ওই ঢালাই বিচ্ছিন্ন হয়ে পোলটি ভেঙ্গে পড়ে। পরে ভাঙ্গা পোলটির ধকল সামলাতে না পেরে নিম্নমানের দূর্বল অপর পোল দুটি ভেঙ্গে পড়ে।


যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নওয়াপাড়া জোনাল অফিসের ডিজিএম প্রকৌশলী আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, যানবাহনের ধাক্কায় একটি খুঁটি ভেঙ্গে পড়ার কারণে অপর দুটি খুঁটিও ভেঙ্গে পড়েছে।

নওয়াপাড়া হাইওয়ে থানার ওসি মো. শাহাবুদ্দিন চৌধুরী জানান, কোনো ধরণের যানবাহনের ধাক্কায় খুঁটিগুলো ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার অভিযোগ পাইনি।

সংযুক্ত থাকুন