সোমবার, ১৯ এপ্রিল ২০২১
Logo
মাস্কপরা যেন ভুলেই গেছেন চৌগাছার মানুষ!

মাস্কপরা যেন ভুলেই গেছেন চৌগাছার মানুষ!

মহামারি করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ ধেয়ে আসছে। সারা বিশে^র ন্যায় বাংলাদেশ সরকারও এই ঢেউ মোকাবেলায় যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহন করেছেন।

 

জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কিন্তু সীমান্তবর্তী উপজেলা চৌগাছার মানুষ মাস্ক পরতে যেন ভুলেই গেছেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে মাঝে মধ্যে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে জরিমানা করলেও সচেতন হচ্ছে না মানুষ।

 

এমন পরিস্থিতিতে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ঘরের বাইরে আসলে মাস্ক পরা বাধ্যতামুলক করতে হবে এমনটিই মনে করছেন উপজেলার সচেতন মহল। চলতি বছরের প্রথম দিকে বাংলাদেশে কোভিড-১৯ রোগী সনাক্ত হয়। এরপর ১৭ মার্চ দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ২৭ মার্চ থেকে অফিস আদালতের কাজও কম করে দেয়া হয়।

 

দেশের প্রতিটি এলাকায় থেমে থেমে চলতে থাকে লকডাউন। চরম এক ভয়াবহ অবস্থা পার করে সারা বিশ্বের মত এদেশের মানুষ। করোনার প্রাদুর্ভাব কিছুটা কমলে আস্তে আস্তে সব কিছু আবার স্বাভাবিক হতে থাকে। এরই মধ্যে পুনরায় শুরু হয় করোনার দ্বিতীয় ধাপ।

 

সরকার প্রধান থেকে সর্বোচ্চ সর্তকতা নির্দেশনা আসে দেশের প্রতিটি এলাকায়। এতে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়। দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ সরকারের এই নির্দেশনা কিছুটা মানলেও চৌগাছার মানুষ চরম অবহেলা করছেন বলে জানা গেছে।

 

গ্রাম থেকে শহর কোথাও নেই তেমন কোন সতর্কতা। শীত শুরুর সাথে সাথে দেশে প্রতি দিনই বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা, দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল। অথচ এ জনপদের মানুষ মাস্ক পরা যেন এক প্রকার ভুলে গেছেন। মঙ্গলবার চৌগাছা উপজেলা সদরের প্রতিটি সড়ক, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, উপজেলা চত্তর, এমনকি পাড়া মহল্লার অলিগলি ঘুরে দেখা গেছে, সাধারণ মানুষ বেশ অসচেতন।

 

তারা মাস্ক ছাড়াই বাজারে এসেছেন। বাজারে আগত মানুষ, পথচারী কিংবা ব্যবসায়ীদের কাছে মাস্ক পরা হয়নি কেন জিজ্ঞাসা করলে তারা নানা অজুহাত দেখিয়ে কিছুটা মুচকি হেসে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। মাস্কপরার বাধ্যবাধকতা নিয়ে আরও কড়া নির্দেশনা দিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থ্যা (ডব্লিউএইচও)।

 

নতুন এই নির্দেশনায় কোভিড-১৯ সংক্রমনের বিস্তার ঘটা এলাকাগুলোর স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের সকলের মাস্কপরা এবং ভালো বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা নেই-এমন ঘরেও অবশ্যই মাস্ক পরতে বলা হয়েছে। গত বুধবার সংস্থাটি এই নির্দেশনা জারি করেছেন।

 

উপজেলার সচেতন মহল মনে করছেন সব বয়সের মানুষের মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করতে সংশ্লিষ্ঠতের আরও কঠোর হতে হবে। ’নো মাস্ক নো সার্ভিস’ এটি অবশ্যই অফিস কিংবা হাট বাজার সর্বত্রই বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্যথায় কোভিড-১৯ দ্বিতীয় ঢেউয়ে ভয়ানক পরিস্থিতি আমাদের সকলকে ভোগ করতে হতে পারে।

 

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নারায়ন চন্দ্র পাল বলেন, করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় সরকার সোচ্চার। আমরা মাঠ পর্যায় থেকে মানুষকে সচেতন করতে কাজ করে যাচ্ছি।

 

সাধারণ মানুষকে আরও সচেতন করতে ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে জরিমানাও করা হচ্ছে। তবে মাস্কের ব্যাপারে আমরা জিরো টালারেন্স ঘোষনা করেছি। মাস্ক ব্যতিত কোন সেবা প্রদান করা হচ্ছে না।

সংযুক্ত থাকুন