বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২১
Logo
যশোরে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি পেশ

যশোরে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি পেশ

দীর্ঘ ২৮ বছর এমপিও বঞ্চিত বেসরকারী অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষকরা

বেসরকারি কলেজের অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তির দাবিতে প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।

 

গতকাল মঙ্গলবার জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এ স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ বেসরকারি কলেজ অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষক ফেডারেশন যশোর জেলা শাখা।

 

এর আগে কালেক্টরেট চত্বরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রায় ২৮ বছর ধরে বেসরকারি কলেজের অনার্স ও মাস্টার্সের শিক্ষকরা শুধুমাত্র জনবল কাঠামোতে না থাকার কারণে এমপিওভুক্তির বাইরে রয়েছে।

 

গত বছরের শেষ দিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় জনবল কাঠামো সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণ করে। উক্ত সংশোধনীর প্রথম সভায় অনার্স-মাস্টার্স কোর্সের শিক্ষকদের জনবল কাঠামোতে অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে সর্ব সম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পরবর্তীতে সরকারের পলিসির বিষয় উল্লেখ করে অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষকদের নীতিমালার বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত নেন সংশোধনী কমিটি।

 

জাতীয় বিশ্ববিদ্যলয়ের অধীনে বেসরকারি কলেজ গুলোতে অনার্স-মাস্টার্স কোর্স চালু করা হয় ১৯৯৩ সাল থেকে কিন্তু এই শিক্ষকদের জন্য আজ পর্যন্ত কোন নীতিমালা তৈরি করা হয়নি। শিক্ষক নিয়োগ থেকে শুরু করে পাঠদানের অনুমতি, সিলেবাস প্রণয়ন, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, ফলাফল প্রকাশসহ সকল কার্যক্রম তদারকি করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।

 

কিন্তু বেতনের বেলায় সরকারি সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়। বহু দেন দরবারের পরে এসব শিক্ষকদের বেতন ভাতা স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠান থেকে প্রচলিত স্কেলে শতভাগ প্রদানের আদেশ জারি করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু প্রতিষ্ঠান গুলোতে ফান্ড না থাকার কারণ দেখিয়ে উক্ত আদেশ না মেনে কলেজ ভেদে ৩ থেকে ১০ হাজার টাকা বেতন প্রদান করে।

শিক্ষকদের উক্ত বেতনের বর্তমান বাজারে পরিবারের ভরণপোষণ ও দিনাতিপাত করা একেবারেই অসম্ভব হয়ে দাড়িয়েছে। শিক্ষকদের যে নূন্যতম বেতন দেয়া হত সেটাও বর্তমানে করোনা মহামারীতে প্রায় ১ বছর ধরে রয়েছে। এসকল শিক্ষকদের সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বিগত দিনে তিনটি নির্দেশনা শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে প্রদান করা হয়।

 

যা আজও বাস্তবায়ন করা হয়নি। এছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির দুটি সুপারিশ ও শিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক দুজন মহাপরিচালকের দুটি সুপারিশ থাকার পরেও অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষকদের জনবল কাঠামোতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

সংগঠনের যশোর জেলা শাখার আহ্বায়ক প্রভাষক মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘শুধুমাত্র জনবল কাঠামোর অজুহাতে দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে আমাদেরকে কেন সরকারি সুযোগ-সুবিধার (এমপিও) বাইরে রাখা হয়েছে তা বোধগম্য নয়।

তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ ও পেশাগত দাবি আদায়ের জন্য সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বানে সারা দেশের ন্যায় আমরা যশোরের সকল কলেজের অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষকরা অহিংস ও শাান্তিপূর্ণভাবে যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছি।

 

সংগঠনের যশোর জেলা শাখার সদস্য সচিব প্রভাষক মো. জসিম উদ্দীন বলেন, ‘উচ্চ শিক্ষায় নিয়োজিত যশোরে ৩৫০ জনসহ সারাদেশে ৩১৫টি কলেজের ৫ হাজার ৫শ’ জন শিক্ষকের বেতন ভাতার যৌক্তিক দাবিতে আমরা যশোরের সকল কলেজের অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষকরা আজকের কর্মসূচি পালন করেছি’।

 

সংগঠনের যশোর জেলা শাখার অন্যতম সদস্য শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘৫ হাজার ৫শ’ জন শিক্ষকের জন্য বছরে ১শ’ ৪৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করলেই এসব শিক্ষকরা সমাজে সম্মান নিয়ে বাঁচতে পারত’। কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট যশোর জেলা শাখার সভাপতি তরিকুল ইসলাম তারু, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট যশোর জেলা শাখার সাবেক সভাপতি ও ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির জেলা সভাপতি হারুন-অর-রশীদ, প্রভাষক আব্দুল কুদ্দুস, প্রভাষক শরিফুল ইসলাম, প্রভাষক জাহাঙ্গীর হোসেন, রুমা পারভীন প্রমুখ।

সংযুক্ত থাকুন