বুধবার, ১২ মে ২০২১
Logo
যশোর-খুলনাঞ্চলে বোরো ধানের বাম্পার ফলন

যশোর-খুলনাঞ্চলে বোরো ধানের বাম্পার ফলন

কালবৈশাখি আতংক : স্বপ্নের ধান ঘরে তুলতে ব্যস্ত চাষিরা

যশোর-খুলনাঞ্চলে এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। ফলন ভালো পেয়ে চাষিরা আনন্দে মাতোয়ারা। ন্যায্যমূল্য এবং অনুকূল আবহাওয়া থাকায় কৃষাণ-কৃষাণিরা ধান ঘরে তুলতে দাবদাহ গরমের মধ্যেও দিন-রাত পরিশ্রম করছেন।


বৈশাখ মাসে কালবৈশাখি ঝড়ের আতংক মাথায় নিয়ে চলতি রমজান মাসেও ধানের কাজে নেই তাদের ক্লান্তির গ্লানি। যশোর-খুলনাঞ্চলে বেশ কিছু এলাকার চাষিরা আগাম ধান ঘরে তুলতে পারলেও অধিকাংশ চাষিরা এখনও ধান ঘরে তুলতে না পারায় রয়েছেন বৈশাখের ঝড়-বৃষ্টির শঙ্কায়।


সবমিলে চাষিরা ধান কাটা, বাঁধা, বহন, ঝাড়াই-মাড়াই, উড়ানো এবং গোলায় উঠাতে ব্যস্ত সময় পার করেছন। এদিকে বৃহস্পতিবার বৈশাখের আকাশে মেঘ গুড়গুড় দেখা দেয়ায় ধান কাটার এক বেলার শ্রমবিক্রি পাঁচ’শ টাকা থেকে আট’শ টাকায় উঠেছে। আর বিকেলে বেলাতো আছেই। বোরো ধান নিয়ে চাষিদের যেন একাকার চলছে দিন-রাত।


রমজানের এই তাপপ্রবাহ দিনে চাষিদের ধান নিয়ে নেই কোন ফুসরত নেই। সকলেই মাঠ থেকে ধান বাড়িতে আনতে মহাব্যস্ত এবং ধান ঝাড়ার ধুম পড়েছে বাড়িতে বাড়িতে। মণিরামপুর উপজেলার গোপিকান্তপুর গ্রামের স্কুল শিক্ষক জয়নুল আবেদীন ৩৮ শতক জমিতে এ বছর বোরো ধানের চাষ করে তিনি ফলন পেয়েছেন ৩৬ মণ। পাতন গ্রামের চাষি আবদুর রশিদ জানান তার এ বছর প্রতি শতকে একমণ বোরো ধান পেয়েছেন।


এ বছর বোরো ধানের বাম্পার ফলন বললেন এ গ্রামের সেচ মালিক আবদুল বারিক মোড়ল। তিনি আরও জানালেন, চলতি বছর যে যতটুকু জমিতে বোরো ধান রোপন করেছে মহান সৃষ্টিকর্তা তার আশা পূরণ করেছেন। তবে ধান ভালো হলেও ঘরে তুলতে কষ্টের শেষ নেই। বৈশাখের তাপপ্রবাহ, তারপরও রমজানের রোযা। সবমিলিয়ে চাষিদের ধান ঘরে আনতে যেন নাকাল অবস্থা।


অভয়নগরের চাষি নারায়ন চন্দ্র জানান, বৃহস্পতিবার আকাশে একটু মেঘ দেখা দেয়ায় ধান কাটার শ্রমিক যেন চাষিদের নাগালের বাইরে। শ্রমিকরা চাষিদের জিম্মি করার মতো বিপদে ফেলে অতিরিক্ত টাকা নিচ্ছেন। যেখানে এক বেলার শ্রমবিক্রি হচ্ছিলো পাঁচ’শ টাকায়, সামান্য মেঘ দেখা দেয়ায় এখন সে মুজরি হয়েছে এক বেলায় আট’শ টাকা। তারপরও চাষিরা হতাশ হননি। সুষ্ঠ পরিবেশে বোরো ধান বাড়িতে তুলতে পারছেন এতেই খুশি কৃষকরা।

সংযুক্ত থাকুন