মঙ্গলবার, ০৯ মার্চ ২০২১
Logo
যশোর পৌরসভা নির্বাচনে আইনি বাঁধা কাটলো

যশোর পৌরসভা নির্বাচনে আইনি বাঁধা কাটলো

সীমানা নির্ধারণ ও ভোটার তালিকা হালনাগাদ না করা সংক্রান্ত জটিলতায় যশোর পৌরসভা নির্বাচন নিয়ে আপিল বিভাগের চেম্বারজজ আদালতের আদেশ বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এর ফলে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি যশোর পৌরসভার নির্বাচনের ভোটগ্রহণে বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।


রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদন শুনানি নিয়ে সোমবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এস কে মোরশেদ ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সমরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস।


রিটের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আবদুল মতিন খসরু ও পংকজ কুমার কুন্ডু। যদিও আগামী মার্চ মাসেই যশোর পৌরসভার ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার নূরুল হুদা। সোমবার যশোর সার্কিট হাউজে যশোর-ঝিনাইদহ জেলার পৌরসভার সাধারণ নির্বাচন উপলক্ষে আইন-শৃংখলা সংক্রান্ত মতবিনিময় সভা শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নূরুল হুদা সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন।


তিনি বলেন, মামলার কারণে যশোর পৌরসভার ভোট গ্রহণ ২৮ ফেব্রুয়ারিতে স্থগিত করা হয়। ইতিমধ্যে মামলার উচ্চ আদালতে নিষ্পিত্তি হয়ে গেছে। যশোর পৌরসভার ভোট গ্রহণে নতুন করে আর কোন আইনি বাঁধা নেই। মার্চ মাসের মধ্যেই ভোট গ্রহণ সম্পন্ন করা হবে। নিয়ম অনুসারে আবারো প্রার্থীরা প্রচারণার সুযোগ পাবেন। প্রার্থীদের প্রচারণা যে কয়েকদিন স্থগিত করা হয়েছিল বিধি মোতাবেধ সেই কয়েকদিন বর্ধিত করা হবে। তিনি আরো বলেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি যশোরের কেশবপুর, ঝিনাইদহের মহেশপুর ও কালিগঞ্জ পৌরসভার ভোট গ্রহণ সম্পন্ন করা হবে। ওই ভোটে হুমকি নেই। কোন বাঁধাও নেই। ইভিএম পদ্ধতিতে সেখানে ভোট গ্রহণ করা হবে। সুষ্ঠুভাবে ভোট নেয়ার সব ব্যবস্থা সম্পন্ন করা হয়েছে। ২৪ থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি তিন দিনব্যাপী কর্মকর্তাদের ইভিএমের উপর প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আইডিইএ প্রকল্প পরিচালক ব্রিগেডিয়াল জেনারেল আবুল কাশেম মোহাম্মদ ফজলুল কাদের, যশোরের জেলা প্রশাসক তজিমুল ইসলাম খান, পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ার্দ্দার, ঝিনইদহের জেলা প্রশাসক মুনতাসিরুল ইসলাম মামুন, পুলিশ সুপার সরোজ কুমার নাথ, খুলনা বিভাগীয় নির্বাচন কর্মকর্তা ইউনুস আলী, যশোর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির, ঝিনইদহ জেলা নির্বাচন কর্তকর্তা রোকুন্নুজ্জামান প্রমুখ। উল্লেখ্য, ১৮ ফেব্রুয়ারি সীমানা সংক্রান্ত জটিলতা ও ভোটার তালিকা হালনাগাদ না করায় যশোর পৌরসভা নির্বাচন স্থগিতে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেন চেম্বার জজ আদালত। একই সঙ্গে বিষয়টি শুনানির জন্য সোমবারের দিন ঠিক করে আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন আদালত। গতকাল সোমবার সেটার শুনানি হয়। গত ৯ ফেব্রুয়ারি যশোর পৌরসভার নির্বাচনী কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি কামরুল হোসেন মোল্লার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। পরে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেন রাষ্ট্রপক্ষ। যশোর পৌরসভা নির্বাচন নিয়ে রিটকারী আইনজীবী পংকজ কুমার কুন্ডু সাংবাদিকদের বলেন, গত বছর যশোর পৌরসভার সীমানা বর্ধিত করা হয়েছে। নতুন ৯ মৌজা যশোর পৌরসভার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করে গেজেট হয়েছে। গেজেট হওয়ার পরও নতুন মৌজাগুলোকে কোনো ওয়ার্ডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি এবং ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। অথচ এ ৯ মৌজার অধিবাসীদের কাছ থেকে ট্যাক্স নেয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা বেআইনি। এটা সম্পূর্ণ আইনের লঙ্ঘন। তাই, যশোর পৌরসভায় নতুন সংযুক্ত হওয়া এলাকার বাসিন্দা মো. আবদুল্লাহসহ তিনজন নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেছিলেন।

সংযুক্ত থাকুন