মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১
Logo
যশোর বাসটার্মিনালে ধুড় সিন্ডিকেট সক্রিয়

যশোর বাসটার্মিনালে ধুড় সিন্ডিকেট সক্রিয়

ভীতি সৃষ্টি করে হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা

যশোর বাসটার্মিনালে ধুড় সিন্ডিকেট ভীতি সৃষ্টি করে হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা। যশোর শহরের শংকরপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে ধুড় পাচার সিন্ডিকেট ভীতি সৃষ্টি করে টাকা ছিনিয়ে নিচ্ছে ভারতগামী মানুষের কাছ থেকে।

 

এদের হাত থেকে বেনাপোল বা শার্শায় যাওয়া মানুষও জিম্মি হয়ে পড়ছে। খুলনা, গোপালগঞ্জ, নড়াইল থেকে আসা বাসগুলো তল্লাশি করে পাসপোর্ট নেই এমন যাত্রীদের জিম্মি করছে। মাথাপ্রতি ২শ’ থেকে ৫শ’ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিচ্ছে চক্রটি। হাফ ডজন সদস্যের একটি টিম নিয়ে সিন্ডিকেট প্রধান স্থানিয় জনৈক ব্যক্তি অপ্রতিরোধ্য স্টাইলে এই কারবার করে চলেছে প্রতিনিয়ত।

 

সে রীতিমত বুলি আওড়াচ্ছে, স্থানীয় ফাঁড়ি ও থানা পুলিশকে পয়সা দিয়েই সিন্ডিকেট পরিচালনা করে। সকাল থেকে যশোর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে বাস শ্রমিকের পাশাপাশি ডজন খানেক যুবক টার্মিনাল থেকে শুরু করে চাঁচড়া চেকপোস্ট ও বেনাপোল পর্যন্ত কয়েকটি বাস চষে বেড়ায়। বিভিন্ন দালালের মাধ্যমে অবৈধপথে ভারত গমনেচ্ছুক লোকজন এদের টার্গেট। গোপালগঞ্জ, নড়াইল, খুলনা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া থেকে বিনা পাসপোর্টে ভারত যাওয়ার জন্য বেনাপোলগামী বাসে ওঠে।

 

আর যে বাসগুলো শংকরপুর বাসটার্মিনাল ও চাঁচড়া চেকপোস্ট হয়ে যায় তার সবগুলোতে শকুনের মত চোখ থাকে এই চক্রের সদস্যদের। বাসে উঠেই যাত্রীর মালামাল টানাটানি ও তল্পিতল্পা ফেলে দেয়ার পরিবেশ তৈরি করে। হঠাৎ করে অনেকে মনে করেন এরা হয়তো পুলিশের সিভিল টিমের লোক, নয়তো বখাটে সন্ত্রাসী। পাসপোর্ট বিহীন ভারতগামী যাত্রী ছাড়াও ঝিকরগাছা, শার্শা ও বেনাপোলগামী যাত্রীরাও এই চক্রের অপতৎপরতার শিকার হচ্ছেন প্রতিনিয়ত।

 

পাসপোর্ট নেই গন্ধ পেলেই তার কাছ থেকে ছিনতাই করার স্টাইলে টাকা নেয়া হচ্ছে। আর পাসপোর্ট না থাকায় ওইসব যাত্রীরা নিরবে টাকা দিয়ে দেন। টাকা হাতিয়ে বলা হচ্ছে, যাও পথে আর কেউ ধরবে না, সোজা ঘাটে গিয়ে তোমাদের লোককে ধরো। এভাবে চলে আসছে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস। চক্রটির পরনে সর্ট প্যান্ট, গায়ে ট্যাটু আর সর্ট গেঞ্জি, কানে রিং, গলায় লোহা কিংবা পিতলের হার, হাতে মাদুলীও থাকছে। এরা টার্মিনাল, রাস্তা ও বাসে চলছে হেলে দুলে।

 

চিলের মত ছোঁ মেরে যাত্রীর মানিব্যাগ, ভ্যানিটিব্যাগ হাতে নিয়ে টাকা নিচ্ছে ওরা। আশিক সাগর, বিআরটিসি, ফেম, রানা পরিবহনসহ ডজনখানেক পরিবহনে এসব যাত্রী বেশি থাকে। বাসের সুপারভাইজারদের সাথে রয়েছে এই চক্রের সখ্যতা। প্রতিদিন অর্ধশত যাত্রীর কাছ থেকে চক্রটি অর্থ বাণিজ্য করে। বাইপাস সড়ক ও শহরতলীর বিভিন্ন সড়কেও থাকে এদের সোর্স। যারা খবর দিয়ে দেয় কে ধুড়।

 

সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আসা যাওয়া করা যাত্রীদের বেশভূষা দেখে তারা আঁচ করে নেয় কে ভারতগামী। টার্মিনাল এলাকার পূর্ব পাশের জাহিদুলের হোটেল, বাবুর চায়ের দোকান ও জামালের চায়ের দোকানসহ আরো কয়েকটি স্পটে নিয়ে পুলিশের ভয় দেখিয়ে বাণিজ্য করছে ওই চক্রটি। সূত্র জানিয়েছে, এই ধুড় সিন্ডিকেটের কেউ কেউ ইয়াবা ফেনসিডিল ও গাঁজা কারবারের সাথেও জড়িত। এই সিন্ডিকেটের কারবার পুলিশ জানলেও অজ্ঞাত কারণে তারা নিরবতা পালন করছে।

 

বিপুল সংখ্যক লোক বিনা পাসপোর্টে ভারত যাওয়ার কারণে ধুড় সিন্ডিকেট লাভবান হলেও সরকার বিশাল অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে। টার্মিনাল এলাকার শান্তিপ্রিয় দোকানী ও বাস শ্রমিকেরা এ চক্রের অপতৎপরতা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। একইসাথে এই চক্রের মুলোৎপাটনে এলাকায় র‌্যাব পুলিশের টহল জোরালো করাসহ গোয়েন্দা অভিযান বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন তারা।

 

এ ব্যাপারে যশোর কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জানান, টার্মিনাল এলাকায় ধুড় সিন্ডিকেট নামে যে চক্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে এ ব্যাপারে তিনি খোঁজ খবর নেবেন। ওই এলাকায় এ সংক্রান্তে পুলিশি নজরদারিও বাড়ানো হবে। তিনি জানান, বিনা পাসপোর্টে ভারত যাওয়া যেমন দেশের জন্য ক্ষতিকর, তেমনি তাদের জিম্মি করে কোনো চক্র আর্থিক সুবিধা নেবে, তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে। ওই চক্রের অপরতৎপরতা রুখতে পুলিশ কঠোর অবস্থানে থাকবে।

সংযুক্ত থাকুন