শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০
Logo
লোহাগড়ায় নবগঙ্গা নদী খননের মাটি যাচ্ছে ইট ভাটায়

লোহাগড়ায় নবগঙ্গা নদী খননের মাটি যাচ্ছে ইট ভাটায়

নড়াইলের লোহাগড়ায় নবগঙ্গা নদী খননের পাড়ের মাটি অবৈধ ভাবে কেটে নিচ্ছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। অভিযোগ আছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করেই এসব মাটি যাচ্ছে উপজেলার অনুমোদন বিহীন বিভিন্ন ইট ভাটায় ও পুকুর বন্ধের কাজে, আর এই মাটি বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে মাটি খেকো ভয়স্কর সিন্ডিকেট সদস্যরা। দিনে ও রাতে বিরামহীন ভাবে অপরিকল্পিত মাটি কেটে নেয়ার ফলে নদী ভাঙনের শঙ্কায় রয়েছে নদী তীরবর্তী পরিবার গুলি। শুরুতে স্থানীয়রা বাঁধা দিলেও তা বন্ধ হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকে বলেছেন ঐ জমি আগে আমার দখলে ছিলো, এখন নদী কাটার কারনে আমরা সরে গেছি, আর উল্টো হাজী সিন্ডিকেটের লোকজন তাদের স্পস্ট জানিয়ে দেয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের অনুমতি নিয়েই নদী পাড়ের মাটি ইট-ভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে। প্রায় এক মাস ধরে দিনের বেলায় অবৈধ ভাবে শতশত ট্রাকভর্তি মাটি অবৈধ ভাবে পাচার হলেও নড়াইল পানিউন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন তারা কিছুই জানেন না। এ বিষয়ে কথা হয় নড়াইল জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রোকৌশলী উজ্জল কুমার সেন এর সাথে। তিনি বলেন, মাটি বিক্রি করার কোন নিয়ম নেই, তবে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য মাটি দেয়া যায়, অনুমতি সাপেক্ষে। তিন চার মাস আগে কাজ বন্ধ হয়েছে, এখন তো মাটি দেওয়ার কথা না। তিনি আরো বলেন, এইমাত্র রিপোর্ট পেলাম যে অবৈধভাবে কিছু লোক নদীর পাড় থেকে মাটি কেটে নিচ্ছে। আমি ঐ এলাকায় যেয়ে তদন্ত করে দেখবো। গত মঙ্গলবার নবগঙ্গা নদীর চর-মল্লিকপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায় কয়েকটি ট্রাকে করে নদী খননের পাড়ের মাটি পাচার করা হচ্ছে। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে ট্রাক রেখে পালিয়ে যায় শ্রমিক এবং চালক। এ সময় কথা হয় মাটি কাটায় নিয়োজিত স্কেভেটর ড্রাইভারদের সাথে। তারা বলেন, হাজি নুর আলম আমাদের মাটি নেয়ার জন্য ঠিক করে এনেছে। তার কথাতেই মাটি কেটে ট্রাকে লোড করছি। মাটি কাটা সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য হাজি নুর আলম বলেন, আমি পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে কথা বলেছি, তিনি আর ও বলেন, আমি ভেকু-ট্রাকটর ভাড়া দিয়েছি আর এই বিষয়ে কিছু জানিনা। কাকে ভাড়া দিয়েছেন এ প্রশ্নের জবাবে তিনি কোন উত্তর দেন নাই। ঠিকাদারের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমি কাউকে মাটি নিতে বলি নাই। যদি কেউ এমন করে সে আইনগত ভাবে ঠিক করে নাই।

সংযুক্ত থাকুন