বৃহস্পতিবার, ১৩ মে ২০২১
Logo
শার্শা-ঝিকরগাছায় বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট : দুর্ভোগে জনজীবন

শার্শা-ঝিকরগাছায় বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট : দুর্ভোগে জনজীবন

যশোরের শার্শা ও ঝিকরগাছায় টিউবওয়েলের পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এতে সাধারন মানুষ পানি শুন্যতায় ভুগছে। বাধ্য হয়ে অনেকেই পুকুরের পানি ব্যাবহার করছেন।

 

যদিও পূর্বে এমন সমস্যা থাকলেও এবছর তীব্র থেকে আরো তীব্র আকার ধারন করেছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে অতিরিক্ত সাব-মির্সিকল পাম্প স্থাপন ও ফসলি জমিতে সেচ এবং গভীর নলকূপ গুলোর জন্যই পানির স্তর অনেক নিচে নেমে যাওয়ায় টিউবওয়েল গুলোতে পানির সংকট দেখা দিয়েছে ধারনা। বিশেষ করে অগভীর টিউবওয়েল গুলোতে এরকম পরিস্থিতি বেশি দেখা দিয়েছে বলে ধারনা করছেন তারা।

 

স্থানীয় সুত্রে যানা গেছে, শার্শা ও ঝিকরগাছা উপজেলার বিভিন্ন এলাকাতে গরমের প্রকোপ পড়ার কিছুদিনের মধ্যে বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। শার্শা ও ঝিকরগাছার বাগআঁচড়া, কায়বা, গোগা, শংকরপুর, হাজিরবাগ, বাঁকড়াসহ উপজেলার অধিকাংশ এলাকার টিউবয়েলে পানি মিলছে না। এলাকার কিছু স্থানের মানুষ বিশুদ্ধ পানির অভাবে পুকুরের ময়লা পানি ফুটিয়ে পান করছেন। অথবা অনেকেই কয়েক কিলোমিটার দুর থেকে কাধে কিংবা মাজায় কলসিতে করে নিয়ে আসছেন বিশুদ্ধ পানি।

 

শার্শার সামটা গ্রামের ফতেমা বেগম (৫৫) বলেন, রান্নাবান্নাসহ সব কাজেই পানি লাগে। টিউবওয়েলে পানি উঠছে না, অনেক দূর থেকে পানি আনতি হচ্ছে। আশপাশের সবার বাড়িতেও একই সমস্যা। যে কলে পানি উঠছে সেখানে আবার লাইনে দাঁড়িয়ে পানি নিতি হয়।”

 

ঝিকরগাছা শংকরপুর ফেরীঘাট বাজারের চায়ের দোকানদার ইকরামুল ইসলাম বলেন, ফেরীঘাট বাজারের অধিকাংশ হস্তচালিত কলে পানি উঠছে না। একটিমাত্র সাবমার্সিবল পাম্পে পানি ওঠছে। ওই নলকূপ থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করতে হয়। সেটাও আবার সব সময় পাওয়া যায় না। হাতে কলস ও বালতি নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়।

 

বাগআঁচড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর সংরক্ষিত ইউপি সদস্য ফুলছুরাত জানান, এলাকার অধিকাংশ আর্সেনিকমুক্ত গভীর হস্তচালিত নলকূপের পানি তোলা যাচ্ছে না। এসব নলকূপ অন্তত ৮০০ ফুট গভীরে বসানো। তবে সরকারি ভাবে এখন কয়েকটি সাবমার্সিবল পাম্প বসানো হয়েছে, যা থেকে এলাকাবাসি পানি সংগ্রহ করছে

 

নাভারন ফজিলাতুন্নেছা মহিলা কলেজের ভূগোল বিভাগের সহকারি অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বুলি বলেন, প্রতিবছর অপরিকল্পিত ভাবে ভূগর্ভস্থ পানি উঠানো হচ্ছে, সেই পরিমাণ পানি ভূগর্ভে পৌঁছাচ্ছে না। আবার প্রতিবছর বৃষ্টিপাতও কম হচ্ছে, যে কারণে পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। এটা রোধ করা প্রয়োজন। কৃষিকাজে পরিকল্পিত ভাবে পানির ব্যবহার করতে না পারলে সামনে পরিস্থিতি আরো অবনতি হবে আশঙ্কা এ শিক্ষকের।

 

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী গোলাম শরীফ জানান, পানির স্তর ৩০ ফুটের বেশি নিচে নেমে যাওয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণত বর্ষার সময়ে পানির স্তর ৫ থেকে ৭ ফুট গভীরে (নিচে) থাকে। তবে এখন সেটা ৩০ ফুটেরও বেশি নিচে নেমে গেছে। ২২ ফুট পর্যন্ত পানি নিচে নামলেও হস্তচালিত নলকূপে পানি তোলা সম্ভব, তবে এর বেশি হলে পাম্প (হাওয়া) সৃষ্টি হয়। পানি উঠতে চায় না।

সংযুক্ত থাকুন