বুধবার, ১২ মে ২০২১
Logo
সব ঘাটে টাকা দিয়ে ব্যবসা চালাই ; লিখে কিছু হবেনা ,অভয়নগরে কাঠ-কয়লা চুল্লি ব্যবসায়ীদের দম্ভোক্তি

সব ঘাটে টাকা দিয়ে ব্যবসা চালাই ; লিখে কিছু হবেনা ,অভয়নগরে কাঠ-কয়লা চুল্লি ব্যবসায়ীদের দম্ভোক্তি

এবার প্রশাসনকে চ্যালেঞ্জ করে কাঁঠ কয়লার চুল্লি তৈরি

লিখলে কিছু হবেনা, আপনার মত অনেকে লিখেছে, আমরা টাকা খরচ করে ব্যাবসা করি, সব ঘাটে টাকা দিয়ে ব্যবসা চালাই। পুলিশ প্রশাসন থেকে শুরু করে অনেককে ম্যানেজ করেই ব্যবসা চালাই। আগে তিন চার জন কয়লা বানাতো।


এখন যোগাযোগের অবস্থা ভালো, টাকা দিলে কেউ মুখ খোলেনা। লাভ বেশী, তাই আমরা সকলে ঝুঁকছি কয়লার ব্যবসায়। জানালেন কয়লা ব্যবসায়ীরা। যেন প্রসাসন সব সময় তাদের পকেটে রেখে চালায় তাদের কয়লা তৈরির কাজ।


অভয়নগর উপজেলার সিদ্ধিপাশা ইউনিয়নের বিভিন্ন জায়গায় প্রশাসনকে এ ভাবে চ্যলেঞ্জ করে একটি স্বার্থান্বেষী প্রভাবশালী মহল ফের কয়লার চুল্লি¬ চালু করেছে।


একাধিকবার প্রশাসন এসকল চুল্লি ভেঙ্গে দিলেও রাতারাতি প্রশাসনকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বারবার এ ব্যবসা চালু করায় স্থানীয়দের মাঝে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সেই সাথে শুরু হয়েছে নানামুখি সমালোচনা। শিশু থেকে বৃদ্ধ সকলে আক্রান্ত এই কৃত্রিম ধোয়ায়।


তারপরও বন উজাড় করে পুনরায় কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরি হচ্ছে দেদারছে। জানাগেছে ছলতি বছরের শুরুর দিকে ও পরে বেশ কয়েকবার পরিবেশ অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসন চুল্লিগুলি ভেঙ্গে দেয়ার পরও আবার নতুন করে কাঠ পুড়ানোর কাজ শুরু হয়েছে।


চুল্লি মালিকদের অভিযোগ যারা ঠিক মত মাসোহরা দেয়না তাদের কয়লা কারখানায় উপজেলা প্রসাশন অভিযান পরিচালনা করে। ৯টি চুল্লির মালিক মোঃ কবির হোসেন নামের এক কয়লা ব্যবসায়ী জানালেন টাকা দিয়ে তার কয়লার চুল্লি চালিয়ে যাচ্ছেন। কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরিতে জড়িত ব্যবসায়ীদের দাবি নওয়াপড়া, ফুলতলা, গিলাতলা, দৌলতপুর ও খুলনার একাধিক সাংবাদিক ম্যনেজ করে ও উপজেলা প্রশাসন এবং পুলিশকে সন্তুষ্ট রেখেই চলে কয়লার এ অবৈধ ব্যবসা। ঘন বসতী পূর্ণ এ অঞ্চলের সবুজ গাছ পালাগুলো ধূসরে পরিনত হতে শুরু হয়েছে।


বিস্তীর্ণ সবুজ ধান ক্ষেতের পাতা পুড়ে গেছে, গাছের ডাল পাতা পুড়ে গেছে ধোয়ার বিষক্ত বাতাসে। মারা যাচ্ছে নদীর পাড়ের বিভিন্ন প্রজাতীয় গাছে। যার ফলে একদিকে বন উজাড় হচ্ছে অপরদিকে পরিবেশ হচ্ছে দূষিত। স্থানীয় শত শত ব্যক্তি ইতিমধ্যে শ্বাস কষ্টে আক্রান্ত হয়েছে। বৃদ্ধ, শিশু ও পরিবেশ সবই ভয়াবহ সংকটে।


প্রশাসনের নিরবতায় প্রভাবশালীরা থোড়ায় কেয়ার করছেনা অসহায়ের আহাজারি। বৃহস্পতিবার বিকালে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, অভয়নগর উপজেলার সিদ্ধিপাশা ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে কাঠকয়লা তৈরির চুল্লি। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে নতুন করে শতাধিক চুল্লি তৈরির কাজ চলমান রয়েছে। এই চুল্লি¬তে দেদারছে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ।


প্রতিনিয়ত ফলজ ও বনজ গাছ কেটে সাবাড় করছে এলাকার কিছু অসাধু পরিবেশ দূষণকারী ব্যক্তি। চুলা বন্ধকর- এ রকম মুখে বড় বড় বুলি ছড়ালে ও বিশেষ মহলের নিজেরাই জড়িত এ কাজে। বিশেষ করে উপজেলার সিদ্ধিপাশা ইউনিয়নের ধুলগ্রাম ও সিদ্দিপাশার সোনাতলা এলাকার কতিপয় অসাধু ব্যক্তি এসব অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন।


খোঁজ নিয়ে ও সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, এই এলাকায় প্রায় ১৫০টির অধিক চুল্লিতে অবৈধভাবে কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরির কাজ চলছে। প্রতিটি চুল্লি¬তে গড়ে ৮থেকে ১০দিনে প্রায় ২৫০মণ কাঠ কয়লা তৈরির কাজে পুড়ছে। বেশ কিছু চুল্লি ভৈরব নদের তীরবর্তী এবং দূর্গম এলাকা হওয়ায় প্রশাসনের অভিযানের বাইরে থেকে যাচ্ছে। বাকি চুল্লি গুলোতে ইতোমধ্যে উপজেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর কয়েকদফা অভিযান চালিয়ে ভেঙ্গে ফেললেও পূনরায় আবার ওই চক্রটি সক্রিয় হয়ে কাঠ পুড়িয়ে যাচ্ছে দেদারছে বলে অভিযোগ উঠেছে।


নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন এলাকাবাসী জানান, পরিবেশ দূষণের কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন এলাকাবাসী। অসাধু চক্রের ভয়ে মুখ খুলতে পারছেন না অনেকে। তাদের মতে, প্রশাসন যদি জোরালো কোনো ভূমিকা রাখে তাহলে হয়তো এই গাছ কেটে কয়লা তৈরি চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে। স্থানীয় ৬ নং ওয়ার্ডের যুবলীগ নেতা নাজিম উদ্দন জানালেন প্রশাসন টাকা খেয়ে নিরব থাকে।


এখন জীবন জাচাতে চুলা ভাংগার বিকল্প কিছু খুজে পাচ্ছিনা। দেখাগেছে, কামরুল ফারাজী ৯টি, জয়বাবু ৮টি, হাবিবুর রহমান হাবিব ৭টি, কবির আহমেদ ৯ টি, হারুর ৯ টি, নুর ইসলাম (ছোট্ট)৪টি, জিয়া মোল্যা ১০ টি, রোকছেদ ৮ টি ও জিয়া মোল্যার ভাই ৩ টি চুল্লির মালিক। এছাড়া এলাকার একাধিক ব্যক্তির রয়েছে এ চুল্লির ব্যবসা। এলাকাবাসী এসকল অবৈধ চুল্লি বন্ধ করতে প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

সংযুক্ত থাকুন