রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২১
Logo
সাতক্ষীরায় ব্যক্তি উদ্যোগে হরিণের খামার

সাতক্ষীরায় ব্যক্তি উদ্যোগে হরিণের খামার

সুন্দরবনের উপকূলীয় অঞ্চল সাতক্ষীরা। সাতক্ষীরা জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার শেষ প্রান্তের এক নিভৃত পল্লী বিষ্ণুপুর। বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের একটি ছোট্ট গ্রামের নন্দকাটি। গলঘশিয়া নদীর তীরবর্তী এ গ্রামটি সবুজ-শ্যামলীমায় ঘেরা এক অপরূপ গ্রাম।


গ্রামটির সৌন্ধর্য্য আরও বহুগুনে বাড়িয়ে দিয়েছে নদীর তীর ঘেষে গড়ে তোলা হরিণের খামার। চিত্রা হরিণের এ খামারটি গড়ে তুলেছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) নেতা আবদুস সাত্তার মোড়ল।


খামারটিতে এখন হরিণের সংখ্যা ৩৫টি। শখের বসেই খামারটি গড়েছেন এই নেতা। প্রতিদিন সেখানে হরিণ দেখতে ভিড় করেন বিভিন্ন এলাকার শত শত দর্শনার্থী। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খামারটিতে বড় হরিণের সংখ্যা ২৯টি। শাবক (বাচ্চা) রয়েছে ছয়টি। ছাগলের মতো হরিণের খাবার দেন খামারটি দেখভালের দায়িত্বে থাকা কর্মীরা।


খামার মালিক মোড়ল আবদুস সাত্তার জাতীয় পার্টির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি বলেন, ‘২০০৪ সালে খুলনার এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে পাঁচটি হরিণ নিয়ে লালন-পালন শুরু করি। শখের বসেই শুরু করেছিলাম। তবে এখন সেটি খামারে রূপান্তরিত হয়েছে। প্রতিদিন হাজারও মানুষ এখন খামারটি দেখতে আসেন।


তিনি জানান, জেলায় এমন হরিণের খামার আর নেই। হরিণের খামার লাভজনক ব্যবসা। এর মাংসের চাহিদাও রয়েছে অনেক। শিক্ষিত বেকার যুবকরা চাকরির পেছনে না ছুটে হরিণের খামার করলে দেশের অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ হবে।


সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল বলেন, আইনি জটিলতা না থাকলে খামার গড়ে তোলার সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হবে। খুলনা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ওয়াইল্ড লাইভ বিভাগ) নির্মল কুমার পাল জানান, আবদুস সাত্তার মোড়লের খামারটি আকাশপথে ২০ কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে। যে কারণে খামারটির লাইসেন্স নবায়ন হচ্ছে না।


তিনি বলেন, হরিণের খামারের লাইসেন্স পেতে হলে অবশ্যই খামারটি আকাশপথে ৩০ কিলোমিটার দূরে হতে হবে। এর বাইরে লাইসেন্স দেয়ার আইনি কোনো সুযোগ নেই।

সংযুক্ত থাকুন