বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২১
Logo
সাতক্ষীরায় শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলা : সাবেক এমপিসহ ৫০ আসামীর সাজা

সাতক্ষীরায় শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলা : সাবেক এমপিসহ ৫০ আসামীর সাজা

সাতক্ষীরার কলারোয়ায় তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলা মামলায় সাবেক এমপিসহ ৫০ জনের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছেন আদালত।


রায়ে সাতক্ষীরা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ তিনজনের সর্বোচ্চ ১০ বছর করে এবং চার্জশিটভুক্ত বাকি ৪৭ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদ- দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাদের জরিমানাও করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সাতক্ষীরার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. হুমায়ুন কবীর এক জনাকীর্ণ আদালতে এই রায় ঘোষণা করেন।


সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে হাবিবুল ইসলাম হাবিব, আরিফুর রহমান ও রিপনকে ১০ বছর করে, আবদুল কাদের বাচ্চুর ৯ বছর, আবদুর রাজ্জাকের সাড়ে ৫ বছর কারাদ- দেয়া হয়েছে। এছাড়া শেখ তামিম আজাদ মেরিন, আবদুর রাকিব মোল্লা, আক্তারুল ইসলাম, মফিজুল ইসলাম, আবদুল মজিদ, অ্যাডভোকেট আবদুস সামাদ, হাসান আলী, ইয়াছিন আলী, ময়না, আবদুস সাত্তার, আবদুর রব, রিংকু ও আবদুস সামাদকে চার বছর ছয় মাস করে, আশরাফ হোসেন, নজরুল ইসলাম, খালেদ মঞ্জুর রোমেল, তোফাজ্জেল হোসেন সেন্টু, মাজহারুল ইসলাম, আবদুল মালেক, জহুরুল ইসলাম, রবিউল ইসলাম, গোলাম রসুল, অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তার, মো. আলাউদ্দিন, আলতাফ হোসেন, সঞ্জু, নাজমুল হোসেন, শাহাবুদ্দিন, সাহেব আলী, সিরাজুল ইসলাম, টাইগার খোকন, জাবিদ রায়হান লাকী, রকিব, ট্রলি শহীদুল, কনক, শেখ কামরুল ইসলাম, মনিরুল ইসলাম, ইয়াছিন আলী, শেলী, শাহিনুর রহমান, বিদার মোড়ল, সোহাগ হোসেন, মাহাফুজুর মোল্লা, আবদুল গফ্ফার গাজী ও মাহাফুজুর রহমান সাবুকে চার বছর করে সাজা দেয়া হয়েছে। আদালতে মোট ৫০ জন আসামির মধ্যে ৩৪ জন উপস্থিত ছিলেন। বাকিরা পলাতক রয়েছেন।


সাতক্ষীরা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আবদুল লতিফ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রসঙ্গত, ২০০২ সালের ৩০ আগস্ট সকাল ১০টার দিকে তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার চন্দনপুর ইউনিয়নের হিজলদি গ্রামের এক মুক্তিযোদ্ধার ধর্ষিতা স্ত্রীকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে দেখে যশোরে ফরছিলেন।


এ সময় কলারোয়া উপজেলা বিএনপি অফিসের সামনে রাস্তার ওপর জেলা বিএনপির সভাপতি ও তৎকালীন এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিবের নির্দেশে বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীরা দলীয় অফিসের সামনে একটি যাত্রীবাহী বাস রাস্তার ওপর আড়াআড়ি থামিয়ে গাড়িবহরে হামলা চালান। হামলায় তৎকালীন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রকৌশলী শেখ মুজিবুর রহমান ও সাংবাদিকসহ কমপক্ষে এক ডজন দলীয় নেতাকর্মী আহত হন।


এ ঘটনায় থানায় মামলা না নেয়ায় ওই বছরের ২ সেপ্টেম্বর কলারোয়া মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোসলেমউদ্দিন বাদী হয়ে যুবদল নেতা আশরাফ হোসেন, আবদুল কাদের বাচ্চুসহ ২৭ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ৭০/৭৫ জনকে আসামি করে আদালতে মামলা দায়ের করেন।


মামলাটি বিভিন্ন আদালত ঘুরে হাইকোর্টের নির্দেশে ২০১৪ সালের ১৫ অক্টোবর এজাহার হিসেবে গণ্য করা হয়। পরবর্তীতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক শফিকুর রহমান ৫০ জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। গত ২৭ জানুয়ারি যুক্তিতর্ক শেষে কাঠগড়ায় থাকা ৩৪ জনকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়ে ৪ ফেব্রুয়ারি রায়ের জন্য দিন ধার্য করেন মুখ্য বিচারিক হাকিম মো. হুমায়ুন কবীর।

সংযুক্ত থাকুন