সোমবার, ১৯ এপ্রিল ২০২১
Logo
স্বপ্নের বাতিঘরে কেবলই শূন্যতা

স্বপ্নের বাতিঘরে কেবলই শূন্যতা

২০১৪ সালের ১০ ফেব্রুয়ারী। যশোরের শিল্পশহর নওয়াপাড়া থেকে অঙ্কুরোদগম হলো এক স্বপ্নবীজ। যার নাম দেয়া হলো ‘দৈনিক নওয়াপাড়া’। দীর্ঘ আঠার বছর যে স্বপ্নটি লালিত হয়ে আসছিলো একজন স্বপ্নের রূপকারের হৃদয়ের গভীরতম প্রদেশে।


তিল তিল করে সন্তানের মতো লালন করা সেই স্বপ্নকে যিনি প্রকাশ্যে আনেন, আলোকিত করেন, ছড়িয়ে দেন যশোর-খুলনাসহ গোটা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অগনিত মানুষের হৃদয় থেকে হৃদয়ে। যে স্বপ্নটি দেখতে না দেখতেই লাখ লাখ মানুষের প্রাণের স্পন্দন হয়ে আলোড়িত করছে।


আন্দোলিত করছে সমাজকে। অসহায়, হতদরিদ্র ছিন্নমূল মানুষের আশার বাতিঘর হয়ে যে স্বপ্নটি আলো ছড়াচ্ছে অকাতরে। সেই স্বপ্নের রূপকার দৈনিক নওয়াপাড়ার প্রাণ পুরুষ, পত্রিকার প্রকাশক সম্পাদক আসলাম হোসেন আজ অন্তিম শয়ানে, অন্ধকার মাটির গহীনতম প্রদেশে চীর নিদ্রায় শায়িত।


তার অকাল মৃত্যু কোন ভাবেই মানতে পারছে না পত্রিকা পরিবারের সদস্যরা। এখনও অবিশ্বাস্য যে স্বপ্নের বাতিঘরে স্বপ্নের সেই রূপকার নেই। আলোর ঝান্ডা হাতে যে আর পথ থাকবেনা তার প্রিয় সহকর্মীদের।


স্বপ্নের বাতিঘর দৈনিক নওয়াপাড়া কার্যালয়ে তাই পিন পতন নিরবতা। হাসি নেই, উচ্ছ্বাস নেই। এক একটা পাথর যেন নিস্তবদ্ধ বসে আছে।


দায়িত্বের কাছে পরাজিত হয়ে কেবল যে যার দায়িত্বটুকু পালন করে যাচ্ছে। আর থেকে থেকে বেরিয়ে আসছে দীর্ঘশ্বাস। সেই অফিস, সেই চেয়ার টেবিল, সেই প্রেস, কর্মযজ্ঞ সবই আছে তবুও বিরাট শূন্যতা চারিদিকে।


হাহাকারের পুঞ্জিভুত হতাশায় মুষড়ে আছে এক একটি মুখ। এ শূন্যতা, এই হারানোর বেদনা অপূরণীয়। দৈনিক নওয়াপাড়ার স্বপ্নের রূপকারের প্রস্থান গোটা সংবাদপত্র জগতে অপূরণীয় ক্ষতির রেশ ফেলে গেছে।

সংযুক্ত থাকুন