রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২১
Logo
হ্যাট্রিক সিরিজ জয় টাইগারদের

হ্যাট্রিক সিরিজ জয় টাইগারদের

একই উইকেটে খেলা হলেও কন্ডিশনের কারণে বোলারদের জন্য ছিল না খুব একটা সহয়তা। বল ভালোভাবেই এলো ব্যাটে। কিন্তু মেহেদী হাসান মিরাজ, মুস্তাফিজুর রহমানদের দারুণ লাইন-লেংথের সামনে খুব একটা লড়াই করতে পারল না ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যানরা।


টানা দ্বিতীয় ম্যাচে তারা গুটিয়ে গেল দেড়শর নিচে। অধিনায়ক তামিম ইকবালের ফিফটিতে সহজেই সেই রান পেরিয়ে সিরিজ জিতে নিল বাংলাদেশ। মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুক্রবার দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৭ উইকেটে জিতেছে বাংলাদেশ।


তিন ম্যাচের সিরিজে এগিয়ে গেছে ২-০ ব্যবধানে। ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে টানা তিন সিরিজ জিতল তারা। ৪৩ ওভার ৪ বলে ১৪৮ রানে গুটিয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ১০০ বল বাকি থাকতে লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে বাংলাদেশ।


ওয়ানডেতে ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে এটি তাদের টানা সপ্তম জয়। আইসিসি ওয়ানডে সুপার লিগে টানা দ্বিতীয় জয়ে বাংলাদেশের পয়েন্ট হলো ২০। নিজের প্রিয় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে আবার উজ্জ্বল মিরাজ।


তরুণ এই অফ স্পিনার ২৫ রানে নেন ৪ উইকেট, ওয়ানডেতে তার ক্যারিয়ার সেরা। আগের সেরাও ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে, সেবার ২৯ রানে ৪ উইকেট পেয়েছিলেন তিনি। ম্যাচ জুড়ে দুর্দান্ত বোলিং করা মুস্তাফিজ ২ উইকেট নেন ১৫ রানে। আগের ম্যাচের নায়ক সাকিবেরও শিকার দুটি, ৩০ রানে।


পরে ব্যাট হাতেও ভালো করেছেন বাঁহাতি এই অলরাউন্ডার। নিয়মিত অধিনায়ক হিসেবে নিজের প্রথম সিরিজ জিতলেন তামিম। আগের ম্যাচে ৪৪ রান করা বাঁহাতি এই ওপেনার এবার করেন ৫০।


অধিনায়ক হিসেবে নিজের প্রথম ফিফটি করার পথে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। ওয়ানডেতে এর চেয়ে বেশি রান আছে তার কেবল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। রান তাড়ায় বাংলাদেশের শুরুটা ছিল আত্মবিশ্বাসী। তবে ভালো শুরুটা বড় করতে পারেননি লিটন দাস।


আকিল হোসেনের বল জায়গায় দাঁড়িয়ে খেলতে গিয়ে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরেন এই ওপেনার। ষষ্ঠ ওভারে বোলিংয়ে এসেই আঘাত হানেন আকিল। তবে আগের ম্যাচের মতো ভীতি ছড়াতে পারেননি তিনি। বাঁহাতি স্পিনারের বিপক্ষে সাবলীল ছিলেন তামিম, নাজমুল হোসেন শান্ত।


স্পিনের বিপক্ষে স্বাগতিকদের পায়ের ব্যবহার ছিল কার্যকর। জেসন মোহাম্মেদের সাদামাটা অফ স্পিনে যদিও ভুগছিলেন শান্ত। তেড়েফুড়ে মারতে গিয়ে প্রায় ক্যাচ উঠে যাচ্ছিল। ভাগ্য ভালো ছিল তার, ব্যাটের কানায় লেগে বল যায় থার্ড ম্যানে। পরে আবার লং অফে ক্যাচ দিয়েও বেঁচে যান। পরে সেই মোহাম্মেদের বলেই উইকেট বিলিয়ে আসেন শান্ত।


শর্ট বল অন সাইডে যেকোনো জায়গায় খেলতে পারতেন তিনি। কিন্তু ক্যাচ তুলে দেন শর্ট মিডউইকেটে। দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ৭৫ বলে পঞ্চাশ স্পর্শ করেই ফিরে যান তামিম। রেমন রিফারের বলে ধরা পড়েন কিপার জশুয়া দা সিলভার গ্লাভসে।


অধিনায়ক হিসেবে প্রথম ফিফটি পাওয়া তামিমের ৭৬ বলের ইনিংসে তিনটি চার ও একটি ছক্কা। মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে বাকিটা সহজেই সারেন সাকিব। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফেরার পর ঘরোয়া টুর্নামেন্টে ভুগছিলেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান।


প্রথম ম্যাচে শেষ করে আসতে পারেননি কাজ। এবার তার ব্যাটে দেখা গেল ছন্দে ফেরার আভাস। চারটি চারে ৫০ বলে ৪৩ রান করেন সাকিব। মুশফিক ২৫ বলে ৯। সকাল থেকে রোদ পায় উইকেট। তাই আগের দিনের মতো অতোটা ধরেনি স্পিন।


এরপরও তা যেন দুর্বোধ্যই হয়ে রইলো সুনিল আমব্রিস-কেয়র্ন ওটলিদের কাছে। টস জিতে মোহাম্মেদের ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত ছিল বেশ অবাক করা। তামিম জানান, আগের ম্যাচের মতো এবারও ফিল্ডিংই নিতেন তিনি। যে ভাবনা থেকে আগে বোলিং নিতে চাওয়া, তা পূরণ করেন মুস্তাফিজ-মিরাজ-সাকিবরা। নিখুঁত লাইন-লেংথে বোলিং করে যাওয়া মুস্তাফিজের বলে রান করার পথ পাচ্ছিলেন না ব্যাটসম্যানরা।


ওয়ানডেতে এই প্রথম এক সিরিজে কোনো দলকে টানা দুই ম্যাচে দেড়শ রানের নিচে থামিয়ে দিল বাংলাদেশ। আগামী সোমবার চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরি স্টেডিয়ামে ক্যারিবিয়ানদের হোয়াইটওয়াশ করার লক্ষ্যে মাঠে নামবে তামিমের দল।

সংযুক্ত থাকুন