রবিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২১
Logo
২২ কিলোমিটারের উচ্ছেদ অভিযান ৬ কিলোমিটারেই শেষ!

২২ কিলোমিটারের উচ্ছেদ অভিযান ৬ কিলোমিটারেই শেষ!

দফায় দফায় আন্দোলন সংগ্রামের পর অবশেষে ভৈরব নদের নওয়াপাড়া নদী বন্দর এলাকায় অবৈধ স্থাপনা ও লংবুম উচ্ছেদের ঘোষণা আসায় আশার আলো দেখেছিলো বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ী ও স্থানীয় সূধিজনেরা।

 

কিন্তু বিআইডাব্লিউটিএ’র এ উচ্ছেদ অভিযান নদী বন্দরে কর্মরত হাজার হাজার শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও সূধিজনদের ততটাই হতাশ করেছে। ২দিনের অভিযানে ২২ কিলোমিটারের মধ্যে লংবুম সহ সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের কথা থাকলেও বিআইডাব্লিউটিএ নাম মাত্র ৬কিলোমিটার উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে উচ্ছেদ কাজ সমাপ্ত ঘোষণা করেছে।

 

বারবার স্কেভেটর নষ্টের অজুহাতে এ উচ্ছেদ অভিযান ৬ কিলোমিটারেই সীমাবদ্ধ থেকেছে বলে নওয়াপাড়া নদী বন্দর অফিসসূত্রে জানা গেছে।

 

যদিও স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ অজ্ঞাত কারনে এবং উচ্ছেদের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের বৃহদাংশ এদিক-সেদিক করার মানসেই যেনতেন ভাবে এ অভিযান শেষ করা হয়েছে। ফলে নওয়াপাড়া নদী বন্দর থেকে সম্পূর্ণরূপে লংবুম ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ হয়নি। যদিও বিআইডাব্লিউটিএ’র নওয়াপাড়া নদী বন্দরের সহকারী পরিচালক শাহ আলম মিয়া এ অভিযোগ অস্বীকার করে বন্দর এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান সফল হয়েছে বলে দাবী করেছেন।


তবে এক প্রশ্নে তিনি ২২ কিলোমিটারের স্থলে ৬ কিলোমিটারে উচ্ছেদ অভিযানের কথা স্বীকার করেছেন। বাকি অংশে উচ্ছেদ অভিযানের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।


স্কেভেটর ত্রুটির কারনে প্রতিদিন ৫/৬ ঘন্টা অভিযান স্থগিত রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে শাহ আলম মিয়া জানান, স্কেভেটরের ত্রুটি ওভারকাম করেই আমরা উচ্ছেদ অভিযানে সফল হয়েছি।


২২ কিলোমিটার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার জন্য ঠিক কি পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ হয়েছে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এাঁ খাতা পত্রের অভ্যন্তরীন বিষয়।


অফিসের গোপনীয় বিষয়ে জানানো সম্ভব নয়। ২২ কিলোমিটার ও ৬ কিলো মিটারের খরচ নিশ্চয়ই এক নয় এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, যারা কাজের অডিট করবেন তারাই বুঝবেন।


উল্লেখ্য যশোরের অভয়নগর উপজেলার বুকচিরে বয়ে চলেছে ভৈরব নদ। এ নদকে কেন্দ্র করে শিল্পাঞ্চল ও নদী বন্দর এলাকা হিসেবে নওয়াপাড়া সারাদেশে পরিচিত। তাই এই ভৈরব নদকে ধ্বংস করতে কতিপয় কিছু স্বার্থেন্বেষী মহল ও অসাধু ব্যবসায়ী একত্রে ভৈরব নদের মধ্যে ২০-২৫ ফুট দখল করে নদের স্রোতধারা বাধাগ্রস্থ করে নদের তলদেশে পলি জমানোর জন্য লংবুম বা অবৈধ জেটি স্থাপন করে।

 

নদী দখলের এই মহোৎসবকে বন্ধ করে ভৈরব নদের নব্যতা ধরে রাখতে নওয়াপাড়া নদী বন্দর কর্তৃপক্ষের ভৈরব নদে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান নওয়াপাড়াবাসীর নিকট আর্শিবাদে পরিণত হয় কিন্তু নওয়াপাড়া নদী বন্দর কর্তৃপক্ষের ২দিন ব্যাপী অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শেষ করার পর নওয়াপাড়াবাসী পুনরায় হাতাশায় পড়েছেন বলে জানিয়েছেন একাধিক সুধীজন।


ভৈরব নদে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানের ১ম দিনে তালতলা থেকে অভিযান শুরু করে ভৈরব সেতু সংলগ্ন এলাকা পর্যন্ত ২০টি ঘাটে অবৈধ জেটি উচ্ছেদ করে।


মঙ্গলবার অভিযানের ২য় দিনে বন্দর কর্তৃপক্ষের তালতলা থেকে মজুতখালি নালা পর্যন্ত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানের কর্মপরিকল্পনা থাকলেও মঙ্গলবার সকালে নওয়াপাড়া নৌ বন্দরের উপপরিচালক শাহ আলম মিয়া’র নেতৃত্বে বিআইডাব্লিউটিএ’র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুব জামিল এ উচ্ছেদ অভিযান পুনরায় ভৈরব সেতু থেকে শুরু করার লক্ষে তালতলা থেকে যাত্রা শুরু করেন।


এর মধ্যে নতুন করে নওয়াপাড়া মহাশ্মশান ঘাট, বাঘা সাহেবের (করিম সিমেন্ট) ঘাট, মমতাজ নাসরিন ঘাট, ও বিদ্যুৎ ঘাটে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন এবং ভৈরব সেতু সংলগ্ন ১ম দিনের উচ্ছেদকৃত এ রহমান পরশ অটো রাইস মিলের ৩টি অবৈধ জেটি ও সাথী এন্ড ব্রাদার্সের ২টি অবৈধ জেটি পুনরায় সম্পূর্ণ উচ্ছেদ করেন।


নওয়াপাড়া নদী বন্দরের আওতাধীন এলাকা মজুতখালী নালা থেকে আফরা ঘাট পর্যন্ত। এর দূরত্ব প্রায় ২২ কিলোমিটার। এই ২২ কিলোমিটারের মধ্যে তালতলা থেকে চেঙ্গুটিয়া পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। এ নিয়ে সনচেতন মহল হতাশা ও প্রশ্ন তুলেছেন এবং বাকি অংশে অনতি বিলম্বে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবী করেছেন।

সংযুক্ত থাকুন