রবিবার, ১১ এপ্রিল ২০২১
Logo
৭শ’ ৯৩ কোটি টাকা ব্যায়ে পশুর চ্যানেলের ইনারবার ড্রেজিংয়ের কাজ শুরু

৭শ’ ৯৩ কোটি টাকা ব্যায়ে পশুর চ্যানেলের ইনারবার ড্রেজিংয়ের কাজ শুরু

১৩ মার্চ উদ্বোধন করবেন নৌ পরিবহণ প্রতিমন্ত্রী

৭শ ৯৩ কোটি ৭২ লাখ ৮০ হাজার টাকা ব্যয়ে শুরু হতে যাচ্ছে মোংলা বন্দরের পশুর চ্যানেলের ইনারবার ড্রেজিংয়ের কাজ। আগামী ১৩ মার্চ পশুর চ্যানেলের প্রায় ১৯ কিলোমিটার নদী পথের এ খনন কাজের উদ্বোধন করবেন নৌ পরিবহণ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।


মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল মোহাম্মদ মুসা বলেন, ইনারবারে (অভ্যন্তরীণ চ্যানেল) ড্রেজিং হলে বন্দরে সাড়ে ৯ মিটার থেকে ১০ মিটার গভীরতা সম্পন্ন বড় বড় জাহাজ অনায়াসেই বন্দরে প্রবেশ করতে পারবে।


বর্তমানে বন্দর চ্যানেলে ৭ মিটার পর্যন্ত গভীরতার জাহাজ ভিড়ার সক্ষমতা রয়েছে। তিনি আরো বলেন, ইনারবার ড্রেজিংয়ের ফলে বন্দরের কার্যক্রমে গতিশীলতা আরো অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে। বন্দরকে ঘিরে নানামুখী উন্নয়নের কারণে এ বন্দরে পূর্বের তুলনায় বর্তমানে প্রায় ২০ শতাংশ জাহাজের আগমন বেড়েছে।


বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়, নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে ২০০২ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত মৃত প্রায় বন্দরে পরিণত হয় মোংলা বন্দর। সে সময় বন্দরটি অচল হয়ে পড়ার মুল কারণ ছিল বন্দরের আউটার ও ইনারবার চ্যানেলে ড্রেজিং না করা। যার কারণে ওই সময়ে চরম নাব্যতা সংকট দেখা দেয়ায় জাহাজ আসতো না এ বন্দরে।


মাসের পর মাস জাহাজ শূণ্য হয়ে অচলাবস্থা ছিলো বন্দর জুড়ে। বন্দরের আউটারবার (বহিঃনোঙ্গর) ও ইনারবারে (অভ্যন্তরীণ) নাব্যতা সংকটের কারণে কন্টেইনারবাহী ৯ দশমিক ৫০ মিটার গভীরতা সম্পন্ন জাহাজ মোংলা বন্দরে সরাসরি প্রবেশ করতে না পারায় কন্টেইনারাইজড মালামাল আমদানী-রপ্তানীতে ব্যবসায়ীরা নিরুৎসাহিত হয়ে আসছেন। তাই বন্দরের জেটিতে স্বাভাবিক জোয়ারে ৯ দশমিক ৫০ মিটারের অধিক গভীরতা সম্পন্ন জাহাজ আনার জন্য পশুর চ্যানেলের জয়মনিরঘোল হতে বন্দর জেটি পর্যন্ত প্রায় ১৯ কিলোমিটার নৌপথ ইনারবারে ২১৬.০৯ লাখ ঘন মিটার ড্রেজিং করার উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।


বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী (সিভিল ও হাইড্রোলিক) ও ইনারবার ড্রেজিং প্রকল্প’র পরিচালক শেখ শওকত আলী বলেন, সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে এ প্রকল্পের মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৯৩ কোটি ৭২ লাভ ৮০ হাজার টাকা। ২০২২ সালের জুনে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হবে বলেও জানান তিনি। ড্রেজিং কার্যক্রমের ঠিকাদার হিসেবে চীনা কোম্পানী জেএইচসিইসি এবং সিসিইসিসি’র সাথে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।


ড্রেজিংয়ের মাটি ফেলার জন্য প্রায় ১৫শ একর জমির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। পশুর নদীর তীরবর্তী অল্প গভীরতা সম্পন্ন প্রায় ৫শ একর জমিতে জিওটেক্সটাইল টিউব দ্বারা ডাইক নির্মাণ করে মাটি ফেলা হবে বলেও জানিয়েছে প্রকৌশলী শেখ শওকত আলী। এদিকে প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের জন্য ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) মাধ্যমে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্টাডি) করা হয়।


খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালিত সমীক্ষায় মোংলা বন্দরে ২০২৫ সালে ৮.৭২ লাখ টিইউজ কন্টেইনার এবং ২০৫০ সালে ৪৫.৩২ লাখ টিইউজ কন্টেইনার ও ৩০ হাজারের বেশী গাড়ী হ্যান্ডলিংয়ের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানানো হয়। এরপরই মূলত প্রকল্পটি চুড়ান্তভাবে হাতে নেওয়া হয়।


বন্দরে অধিক গভীরতা সম্পন্ন জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ের জন্য পশুর চ্যানেলের ইনারবারে নাব্যতা বৃদ্ধি প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা একান্ত জরুরী বলে মনে করছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা। বন্দর ব্যবহারকারী ক্যাপ্টেন রফিকুল ইসলাম, বদিউজ্জামান টিটু ও এইচ এম দুলাল বলেন, ড্রেজিং প্রকল্প বাস্তবায়নের পর ২০২১ সালের পর মোংলা বন্দরের ব্যবহার বহুগুনে বৃদ্ধি পাবে।


তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে যেসব কন্টেইনারবাহী জাহাজ আগমণ করে এসব জাহাজ পূর্ণ লোড অবস্থায় প্রায় ৯.৫০ মিটার ড্রাফটের হয়ে থাকে। নাব্যতা সংকটের কারণে সেসব জাহাজ মোংলা বন্দরে সরাসরি প্রবেশ করতে পারে না। ইনারবার ড্রেজিং সম্পন্ন হলে এ সংকট কেটে যাবে বলে মনে করছেন তিনি।

সংযুক্ত থাকুন