সোমবার, ২১ জুন ২০২১
Logo
 আশাশুনির ৫ গ্রাম ও পাইকগাছার বিস্তির্ণ এলাকা প্লাবিত

 আশাশুনির ৫ গ্রাম ও পাইকগাছার বিস্তির্ণ এলাকা প্লাবিত

ভাঙ্গন রোধ হয়নি আশাশুনিতে : পাইকগাছায় ব্যাপক ভাঙ্গন

নদীর জোয়ারের পানি অস্বাভাবিক ভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ও ওভার ফ্লো হয়ে আশাশুনি উপজেলার ৪ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে পানি ঢোকা ও সদর ইউনিয়নে রিং বাঁধ ভেঙ্গে লোনা পানি ভেতরে প্রবেশ অব্যাহত থাকায় নতুন করে আরো ৩ গ্রামসহ মোট ৫ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।


তাছাড়া খুলনার পাইকগাছায় ব্যাপক ভাঙ্গ দেখা দিয়েছে। ভাঙ্গনে পাইকগাছার বিস্তির্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। আশাশুনি সংবাদদাতা জানান, আশাশুনি সদরে দয়ারঘাটে ৫টি পয়েন্টে ভেঙ্গে যাওয়া রিং বাঁধের ৩টি পয়েন্টে আটকানো সম্ভব হলেও এখনো দু’টি পয়েন্ট দিয়ে পানি প্রবেশ করতে থাকায় একের পর এক নতুন এলাকা প্লাবিত হয়ে চলেছে।


পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুধাংশু কুমার সরকার ও এসও গোলাম বাপ্পী জানান, বিগত সুপার সাইক্লোন আম্ফানে আশাশুনিতে স্বাভাবিকের তুলনায় পানি বৃদ্ধি পেয়ে ৩.৪০ সেঃমিঃ বৃদ্ধি পেয়েছিল। মঙ্গলবার সেখানে আরও বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পাউবো’র বেড়ী বাঁধ উপচে ভিতরে পানি ঢুকেছিল। বুধবার দুপুরের খোলপেটুয়া নদীর জোয়ারে পানি মঙ্গলবারের তুলনায় আরো কমপক্ষে ১০-১২ সেঃমিঃ বৃদ্ধি পেয়ে ৩.৫৪ সেঃমিঃ বৃদ্ধি পাওয়ায় রিং বাঁধ টিকতে পারেনি।


সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, আশাশুনি টু দয়ারঘাট মেইন সড়কে রিং বাঁধের পূর্বের ভাঙ্গনকৃত ৫ টি পয়েন্ট ছাড়া নতুন আরেকটি পয়েন্টে ভাঙ্গন লাগলে জোয়ারের সময় লোনা পানি প্রবল বেগে ভেতরে প্রবেশ করছে। তবে ভাটার সময় পানি ভেতরে প্রবেশের তুলনায় কম নদীতে ফিরতে পারায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে মৎস্য চাষের প্রায় শতাধিক ঘের, অসংখ্য সাদা মাছ চাষের পুকুর, বসতবাড়ী, গবাদি পশুসহ আধা পাকা ও কাচা বোরো ধানের কৃষি জমি।


উপজেলা চেয়ারম্যান এবিএম মোস্তাকিম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুল হুসেইন খাঁন, সদর ইউপি চেয়ারম্যান সম সেলিম রেজা মিলন, পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী সুধাংশু কুমার সরকার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তাৎক্ষনিকভাবে রিং বাঁধ সংস্কারে লোক লাগিয়ে বাঁধ রক্ষার প্রাণপন চেষ্টা করে যাচ্ছেন। সদরের ৫টি পয়ন্টের ৩টির কাজ শেষ হয়েছে। বাকী দু’টির কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। চিংড়ি পোনা হ্যাচারি, একটি মসজিদ, ৪টি মন্দির, প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ নতুন করে অসংখ্য বসতবাড়ী ভেঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।


প্রায় ডর্জনাধিক পরিবার পাউবো’র বাঁধে অবস্থান করছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত প্লাবিত এলাকার বানভাসি পরিবারের মধ্যে সরকারি ও এনজিও’র পক্ষ থেকে কোন শুকনা খবার সরবরাহ করা হয়নি। এখন এলাকায় সুপেয় পানি, মল ত্যাগের ব্যবস্থাসহ কোন খাদ্য সরবরাহ করা হয়নি। আগামী ২/১ দিনের মধ্যে রিং বাঁধ যদি বাঁধা না হয় তাহলে উপজেলা সদর ইউনিয়নের বাকী গ্রাম, শ্রীউলা ও শোভনালী ইউনিয়নে পানি ঢুকে যাবে। এদিকে, মরিচ্চাপ নদীর পানি রক্ষা বাঁধ না থাকায় বর্তমান আশাশুনি বাজারের ভেতর দিয়ে বিভিন্ন সড়কের উপর ও দেকান পাটের মধ্যদিয়ে জোয়ারের পানি ভেতরে ঢুকে সড়ক প্লাবিত ও থানা পুকুর ডুবে গেছে।


নদীর প্রবল জোয়ারে পানিতে প্রতাপনগর ইউনিয়নের হরিশখালী, কুড়িকাহুনিয়া এবং শ্রীউলা ইউনিয়নের নাসিমাবাদের ৫টি পয়েন্টে, খাজরার ৭ নং ওয়ার্ড ও গদাইপুর, আশাশুনি সদরের মানিকখালী গ্রামে রিং ও মুলবাঁধ ভেঙ্গে পানি ভেতরে ঢুকেছিল। প্রতাপনগরের বাঁধের অবস্থা খুবই ভয়াবহ। এখানে দ্রুততার সাথে কাজ করা না হলেও বাঁধটি পুনরায় ভেঙ্গে আবারও প্রতাপনগর ইউনিয়ন প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


মানিকখালী ব্রীজ এলাকা হতে বামনডাঙ্গা গামী ওয়াপদা বাঁধের ও জামালনগর গামী বাঁধের অসংখ্যস্থানে ওভার ফ্লো’র ঘটনা ঘটেছিল। এসব বাধসহ উপজেলার সকল এলাকায় বেড়ী বাঁধের উচ্চতা বাড়িয়ে মাটির সংস্কার কাজ করার জন্য এলাকাবাসী জোর দাবী জানিয়েছেন।

 

পাইকগাছা সংবাদদাতা জানান, পূর্ণিমার প্রভাবে পাইকগাছার নদ-নদীতে অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে গত দু’দিনে এলাকার কয়েকটি স্থানে ভয়াবহ ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে এবং কয়েকটি স্থানে বাঁধ ভেঙ্গে বিস্তির্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। চরম ঝুঁকিতে রয়েছে ভাঙ্গন কবলিত এলাকার মানুষ। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার ক্ষতিগ্রস্থ বাঁধ মেরামত সহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।


বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে পূর্ণিমার প্রভাবে গত দুদিন এলাকার শিবসা, কপোতাক্ষ, কড়–লিয়া, দেলুটি ও জিরবুনিয়া সহ সকল নদ-নদীতে অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। জোয়ারের সময় স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক ফুট পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার ফলে গত দুদিনে এলাকার কয়েকটি স্থানে ভয়াবহ ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে এবং কয়েকটি স্থানে বাঁধ ভেঙ্গে বিস্তির্ণ এলাকা প্লাবিত হয়।


এতে মৎস সহ কৃষি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আবুল কালাম আজাদ জানান রাড়–লী ইউনিয়নের কাটিপাড়া- খেশরা নতুন ব্রিজের পাশে পুরাতন খেঁয়াঘাট এলাকা থেকে মঙ্গলবার দুপুরে কপোতাক্ষ নদের জোয়ারের প্রবল স্রোতে প্রায় ৫০ফুট বাধ ভেঙ্গে বিস্তির্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। এতে মৎস, কৃষি ফসল ও পানের বরজের ব্যাপক ক্ষতি হয়। সোলাদানা ইউনিয়ন সহকারী ভুমি কর্মকর্তা জানান একই সময়ে শিবসার জোয়ারের পানিতে ইউনিয়নের সোলাদানা খেঁয়াঘাট সংলগ্ন গ্চ্ছুগ্রাম তলিয়ে যায়।


দেলুটি ইউপি চেয়ারম্যান রিপন কুমার মন্ডল জানান বুধবার দুপুরে জিরবুনিয়ার প্রকাশ মন্ডলের লীজ ঘেরের কলগই এলাকা থেকে দেলুটি-জিরবুনিয়া নদীর প্রবল জোয়ারের ¯্রােতে ১০হাত এলাকা জুড়ে বাঁধ ভেঙ্গে এলাকায় পানি ঢুকে পড়ে। পাটকেল পোতা গ্রামের আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান সোলাদানা ইউনিয়নের পাটকেল পোতা সানা বাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ওয়াপদার বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙ্গন সৃষ্টি হয়েছে। গত দুদিনে প্রায় ৬০ হাত এলাকা জুড়ে বাঁধের কিছু অংশ সহ নদী গর্ভে চলে গেছে।


যেকোন মুহুর্তে বাঁধ ভেঙ্গে বিস্তির্ণ এলাকা প্লাবিত হতে পারে। এজন্য আমরা এলাকাবাসি চরম আতংকের মধ্যে রয়েছি। ঝুকিপূর্ণ ও ক্ষতি গ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাউবো’র উপ-সহকারী প্রকৌশলী ফরিদ উদ্দীন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী জানান বুধবার সকালে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে এ সংক্রান্ত জরুরি বৈঠক করেছি।


বৈঠকে ক্ষয়ক্ষতি নিরুপন ও বাঁধ সংস্কারের ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া পাউবো’র উর্দ্ধতন কতৃপক্ষকে দ্রুত বাঁধ মেরামত ও সংস্কারের জন্য অবহিত করা হয়েছে।

সংযুক্ত থাকুন